একদিন আগেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অজিত মাহাতো। তাঁর বিরুদ্ধে বন দপ্তরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে চাকরি করিয়ে দিতে পারেননি অজিত। বরং ওই টাকাও ফেরত না দিয়ে প্রতারণা করেছেন যুবকের সঙ্গে বলে অভিযোগ। ওই অভিযোগের তদন্তে নেমে ম্যারাথন জেরা করা হয়েছে অজিত মাহাতোকে। সেখানে নাকি উঠে এসেছে প্রাক্তন বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার নাম। বীরবাহার মাধ্যমে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অজিত বলে অভিযোগ। এই বিষয়টি এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এই অভিযোগের তদন্ত সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য বীরবাহা হাঁসদাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে পুলিশ। তবে কবে, কখন ডাকবে সে বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি পুলিশ। রাজনীতির ময়দানে বীরবাহার একটা স্বচ্ছ ভাবমূর্তি আছে। তেমনই আছে বিতর্কও। পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন অজিত মাহাতোকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি ব্যাঙ্কের পাস বই, দুটি গাড়ির নথি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অজিত মাহাতোর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরে সরাসরি বীরবাহা হাঁসদার নাম নেই। তবে তদন্তের সূত্রে তাঁর নাম উঠে এসেছে। বনমন্ত্রী থাকাকালীন বীরবাহার বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠদের বনদপ্তরে চাকরি পাইয়ে দেওয়া এবং পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের কাজের সমীক্ষার বরাত পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
এখানেই শেষ নয়, বিজেপির পাশাপাশি নানা মহল থেকেও বীরবাহার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এখন আর্থিক প্রতারণার ঘটনার সঙ্গে ওই অভিযোগগুলির কোনও যোগ আছে কিনা সেটা এখনও জানা যায়নি। অজিত মাহাতোকে এই বিষয়ে লাগাতার জেরা করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে অজিত মাহাতো এবং বীরবাহা হাঁসদা একই জেলার বাসিন্দা বলে পুলিশের সন্দেহ বাড়ছে। তাই আরও তথ্যপ্রমাণ খুঁজছে পুলিশ। তেমন কোনও হাতে গরম প্রমাণ মিললে বীরবাহা হাঁসদাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তাছাড়া অজিতের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২০২৪, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের মধ্যে খোলা পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাস বই উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যের নামে থাকা দুটি গাড়ির নথিও মিলেছে। সোমবার ব্যাঙ্ক থেকে অ্যাকাউন্টগুলির স্টেটমেন্ট নিয়ে লেনদেন খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা বলে সূত্রের খবর। ঝাড়গ্রাম পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর অজিত গত বিধানসভা নির্বাচনে গোপীবল্লভপুরে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার আদালত আট দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এই বিষয়ে পুলিশ সুপার মানব সিংলা বলেন, ‘আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি।’