অরূপ বিশ্বাসকে সময়সীমা বেঁধে দিল বিধাননগর পুলিশ, কলকাতা হাইকোর্টে শতদ্রু

ফাইল চিত্র

তৃতীয় নোটিসেও সাড়া দেননি অরূপ বিশ্বাস। মেসিকাণ্ডে তাঁকে তলব করেছিল বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল অরূপ বিশ্বাসকে। আর বারবার হাজিরা এড়ানোর জন্য প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে ভর্ৎসনা করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এই আবহে এবার মঙ্গলবার তাঁকে রীতিমতো সময়সীমা বেঁধে দিল পুলিশ। বিধাননগর পুলিশ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ১২টার মধ্যে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী হাজির না হলে আদালতে যাবেন তদন্তকারী অফিসাররা।

এদিকে তিনবার হাজিরা এড়িয়ে অরূপ বিশ্বাস এখন গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। বারবার হাজিরা না দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশও অমান্য করেছেন অরূপ বিশ্বাস। তাই এবার কলকাতা হাইকোর্টের আগের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করলেন মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। আগামী সপ্তাহে ওই মামলার শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট আগে বলেছিল, এখনই গ্রেপ্তার করার মতো কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তবে তদন্ত চলবে এবং অরূপ বিশ্বাসকে সহযোগিতা করতে হবে।

অন্যদিকে এই নির্দেশের পর থেকে কোনও সহযোগিতা করেননি অরূপ বিশ্বাস। তদন্তের জন্য বারবার তলব করা হলেও হাজির হননি তিনি। আর তাই কলকাতা হাইকোর্টে গেলেন শতদ্রু দত্ত। ১৫ জুনের হাজিরাও এড়িয়ে গিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। অরূপকে গ্রেপ্তার না করার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সেই সিদ্ধান্তে অখুশি শতদ্রু দত্ত। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যাবেন। সেখানে আশানুরূপ রায় না হলে সুপ্রিম কোর্টেও যাবেন। তাই এখন চরম বিপাকে পড়তে চলেছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী।


তাছাড়া পরপর তিনবার তদন্তকারী সংস্থার ডাকে সাড়া না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অরূপের বিরুদ্ধে। এমনকী সেটা আদালত অবমাননার সামিল। আর হাজিরা এড়িয়ে এখন তিনি কোথায় আছেন তাও পুলিশকে জানাননি। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও অরূপ বিশ্বাস হাজিরা না দেওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন শতদ্রু। একইসঙ্গে জুঁই বিশ্বাসকেও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার জন্য শতদ্রু দত্ত আইনি পদক্ষেপ করছেন বলে জানিয়েছেন। গ্রেপ্তারের ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস বলে মনে করা হচ্ছে। অরূপ বিশ্বাসের উপর নানা কড়া শর্তও চাপিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। অরূপ বিশ্বাসকে তাঁর পাসপোর্ট তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছিল। তিনি যে থানার অন্তর্গত এলাকায় বসবাস করেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া নির্দিষ্ট থানা এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অরূপ বিশ্বাসকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে বলেও নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সেখানে হাজিরা এড়িয়ে অসহযোগিতা করলেন অরূপ।