মেসিকাণ্ডে তৃতীয়বার তলব অরূপ বিশ্বাসকে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাজিরার নির্দেশ

ফাইল চিত্র

আবার নোটিস দেওয়া হলো অরূপ বিশ্বাসকে। এটি তৃতীয় নোটিস। মেসিকাণ্ডে তাঁর নাম জড়িয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই একাধিকবার হাজিরা এড়িয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। এমনকী রক্ষাকবচ পেতে কলকাতা হাইকোর্টের দুয়ারে কড়া নেড়েছিলেন। যদিও মেলেনি সেটি। তবে আদালতের নির্দেশেই মেসিকাণ্ডে পুনরায় হাজিরার জন্য নোটিস পাঠাল বিধাননগর দক্ষিণ থানা। আর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অরূপ বিশ্বাসকে। বরং বারবার হাজিরা এড়ানোর জন্য প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে ভর্ৎসনা করে আদালত।

ওই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পুলিশ ডাকলে নির্ধারিত দিনে হাজিরা দিতেই হবে অরূপ বিশ্বাসকে। তদন্তে কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে না। তাই আদালতের নির্দেশ মেনে, ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে হাজিরার জন্য তৃতীয় নোটিস পাঠাল পুলিশ। ইতিমধ্যেই শ্লীলতাহানির অভিযোগে অরূপের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর দাদা অরূপ গ্রেপ্তারের ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, নোটিস পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাজিরা দিতে হবে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।

গত ৮ তারিখ, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য শর্তসাপেক্ষে অরূপ বিশ্বাসকে সময় দিয়েছেন। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনওরকম কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা দমনমূলক নীতি গ্রহণ করতে পারবে না পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু তদন্ত অবশ্যই করতে পারবে। তবে অরূপের ওপর নানা কড়া শর্তও চাপিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। অরূপ বিশ্বাসকে তাঁর পাসপোর্ট তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে জমা দিতে হবে। তিনি যে থানার অন্তর্গত এলাকায় বসবাস করেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া নির্দিষ্ট থানা এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না।


এইসব শর্ত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অরূপ বিশ্বাসকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। এবার দেখার বিষয়, তৃতীয় নোটিস পেয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী হাজিরা দেন কিনা। কলকাতা হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে প্রাক্তন মন্ত্রীকে পুলিশের তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। বিধাননগর দক্ষিণ থানার তদন্তকারী অফিসাররা যদি অরূপ বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে চান সেক্ষেত্রে তার অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস পাঠাতে হবে। পুলিশ আদালতের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করল। এখন দেখার অরূপ বিশ্বাস আদালতের নির্দেশ মেনে পুলিশের কাছে গিয়ে তদন্তে সাহায্য করেন কিনা। অরূপ বিশ্বাসকে দেখা গিয়েছিল ফুটবলার মেসিকে জড়িয়ে ছবি তুলতে। তখন ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। এবার এই নিয়ে মামলা হতেই বিচারপতি প্রশ্ন করেছিলেন, ওভাবে জড়িয়ে ধরার কারণ কী? বাল্যবন্ধু নাকি?