বিধাননগর পুরসভা থেকে কদিন আগেই পদত্যাগ করেছেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। ওই পুরসভায় ডামাডোল চরমে উঠেছে। নাগরিক পরিষেবা এবার থেকে মিলবে কেমন করে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিধাননগরবাসী। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নয়া মেয়রও নিয়োগ করা হয়নি। মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করার পর আর দেখা যায়নি কৃষ্ণা চক্রবর্তীকে। এই আবহে এবার বিধাননগর পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হল। আর কাজ চালিয়ে যাবেন কমিশনার।
এখন সব দায়িত্ব পুর কমিশনারের। শনিবার পুরবোর্ড ভেঙে দিল প্রশাসন৷ রাজ্যের রাজ্যপালের অনুমতি সাপেক্ষে রাজ্যের পুর দপ্তরের পক্ষ থেকে জারি করা একটি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিধাননগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ওয়েস্ট বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট, ২০০৬ এর আওতায় ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে নোটিস জারি করার সময় থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হবে৷ আর পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ায় যে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক এবং নাগরিক পরিষেবার কাজ চালিয়ে যেতে পুর কমিশনার নিয়োগ করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী, আপাতত আগামী ৬ মাস পুরসভার কাজকর্ম সামলাবেন সংশ্লিষ্ট কমিশনার। যতদিন না পর্যন্ত পুরসভার নির্বাচন হচ্ছে।
অন্যদিকে শুক্রবার কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। আর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন বিধাননগর পুরসভার মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী। ইতিমধ্যেই তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন বিধাননগরের একাধিক কাউন্সিলর। বিধাননগরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজিত বসুও ইডি হেফাজতে রয়েছেন। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর কৃষ্ণা চক্রবর্তী বলেছিলেন, ‘সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি৷ অন্য কোনও কারণ বা কারও উপরে অভিমান নেই৷ বিধাননগরের মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’ কৃষ্ণা চক্রবর্তী পদত্যাগ করে বেরিয়ে যাওয়ার পরই কাঁধে ড্রাম ভর্তি গঙ্গাজল নিয়ে সেখানে হাজির হন বিজেপি কর্মী তথা করুণাময়ী ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সঞ্জয় পয়রা। ওই জল দিয়েই পরিষ্কার করা হয় বিধাননগর পুরসভা চত্বর।