বারুদের স্তূপে ভাঙড়, ভোটের আগেই উদ্ধার একের পর এক বোমা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যে নিরাপত্তা জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল, পুলিশের নাকা চেকিং—সব মিলিয়ে কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে স্পর্শকাতর এলাকা ভাঙড়কে। তবুও এলাকায় অশান্তির আশঙ্কা ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বাসিন্দাদের একাংশ।

নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনকে হিংসামুক্ত রাখতে কমিশন বদ্ধপরিকর। ইতিমধ্যেই এক মাস আগে থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত টহল ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

তবে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, অতীতের মতোই ভোটের আগে এলাকায় বোমা তৈরির চক্র সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও এই ধরনের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন কড়া নজর রাখছে। পুলিশের দাবি, দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চলছে এবং একাধিক ক্ষেত্রে বোমা ও অস্ত্র উদ্ধার করে বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে।


সাম্প্রতিক সময়ে ভাঙড় ও আশপাশের এলাকায় বেশ কিছু তাজা বোমা উদ্ধার হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে টহল দিচ্ছে।

রাজনৈতিকভাবে এই এলাকা যথেষ্ট সংবেদনশীল। সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও আইএসএফের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে এসেছে। তবে শাসক দলের দাবি, অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বিরোধীরাই।

ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা স্পষ্টভাবে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘বোমা বাঁধা বা অশান্তি তৈরির সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং বিরোধীরাই পরিকল্পিতভাবে এলাকা অশান্ত করার চেষ্টা করছে।’

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাইরে থেকে অবৈধভাবে বিস্ফোরক আনার চক্র ভাঙতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন রুটে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজনদের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের উত্তেজনা তৈরি হলেও প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করছে। তৃণমূলের দাবি, শান্তিপূর্ণ ভোট করানোই তাদের মূল লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্যে প্রশাসন ও দলীয় স্তরে সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।