সুপারি পাচার ও জিএসটি ফাঁকির অভিযোগে উত্তরবঙ্গ-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। বৃহস্পতিবার কোচবিহার ও শিলিগুড়ি-সহ পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। একই সঙ্গে অসম, মিজোরাম এবং উত্তরপ্রদেশেও অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নথি, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ।
ইডি সূত্রে খবর, বেআইনি ভাবে সুপারি ব্যবসা চালিয়ে জিএসটি ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। পাশাপাশি ভারত-মায়ানমার সীমান্ত দিয়ে বেআইনি ভাবে সুপারি পাচারের অভিযোগও রয়েছে। অসমের একটি থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। পরে ইডির গুয়াহাটি দফতর এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট নথিভুক্ত করে তদন্তে নামে।
বৃহস্পতিবার সকালে কোচবিহারের বক্সিরহাটে ব্যবসায়ী বিনয় বর্মনের বাড়িতে তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকরা। কোচবিহার শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর একটি ফ্ল্যাটেও তল্লাশি চালানো হয়। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিনয় সুপারি ব্যবসার পাশাপাশি কয়লা ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত। শিলিগুড়ির সুপারি ব্যবসায়ী ধীরাজ ঘোষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলেও তদন্তকারীদের দাবি।
অন্য দিকে, শিলিগুড়ির বর্ধমান রোডে সন্দীপ বৈদ্যের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। তাঁর বাড়িতে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চলে বলে সূত্রের খবর। বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা।
একই সময়ে শিলিগুড়ির আরও একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়। ইডি সূত্রের দাবি, শহরে বেশ কিছু সুপারি ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্রের মাধ্যমে ব্যবসা চালিয়ে সরকারি কর ফাঁকি দিচ্ছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে তল্লাশি শুরু হয়।
শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়ার একটি ফার্মহাউসেও তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকরা। সেটি শহরের পরিচিত সুপারি ব্যবসায়ী ধীরাজ ওরফে হীরেশের বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বাড়ি এবং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন দফতরের নথিও খতিয়ে দেখা হয়।
ইডি সূত্রে দাবি, বৃহস্পতিবারের অভিযানে সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু নথি ও বৈদ্যুতিন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সুপারি পাচার, কর ফাঁকি এবং আর্থিক লেনদেনের মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।