আইএসআই যোগ থাকা ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল এসটিএফ, ভুয়ো নথি বানিয়ে বঙ্গে প্রবেশ

Photo-SNS

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। তার জন্য যাবতীয় উদ্যোগ নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। বিএসএফকে জমি দেওয়া থেকে শুরু করে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ চলছে। কড়া হাতে অনুপ্রবেশ রুখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর তার মধ্যেই জঙ্গি সন্দেহে বুধবার বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করা হলো রানা রাউত নামে একজনকে। এই রানা রাউতকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। সীমান্ত পেরিয়ে সে ঢুকে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁয়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। কোন উদ্দেশে এখানে এসেছিল রানা তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

আর তিনদিনের মাথায় দেশের স্বাধীনতা দিবস। সুতরাং সেদিন কোনও নাশকতা করার ছক ছিল কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওয়াহাব আলম এই নামে জাল নথি তৈরি করে সে ভারতে বসবাস করছিল। এমনকী রানার সঙ্গে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের যোগ রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এই সন্দেহেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বনগাঁয় তল্লাশি চালিয়ে রানা রাউতকে ধরল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। কেমন করে পাকিস্তানের নাগরিক ভারতে ঢুকে পড়ল তা নিয়েই চলছে তদন্ত। রানাকে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে। তবে রানা এই দেশের নানা তথ্য পাচার করছিল পাকিস্তানে বলে সূত্রের খবর।

শুধু তাই নয়, জাল নথি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ভারতে বসবাস করছিল বলে এসটিএফ সূত্রে জানা যাচ্ছে। জেরা করে এসটিএফ জানতে পেরেছে, রানা রাউত আসলে পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা। এই রানা রাউত ২০১২ সালে ভারতে এসেছিল অবৈধ পথের মাধ্যমে। নেপাল হয়ে বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার হয়ে কাজ করছিল। আগে নেপালে বেশ কিছুদিন ছিল রানা রাউত। পরে ভারতে ঢুকে বাংলায় থাকতে শুরু করে। এই রানা রাউত ভারতীয় রেল এবং সেনাবাহিনীর নানা গতিবিধির উপর নজর রাখছিল এবং ছবি থেকে শুরু করে তথ্য পাঠাচ্ছিল বলে জানতে পেরেছে এসটিএফ। ধৃতের কাছ থেকে ফোর্ট উইলিয়মের ছবি এবং একটি ম্যাপ উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। কিন্তু কীভাবে কলকাতায় সেনা সদর দপ্তরের ছবি এবং ম্যাপ ধৃত পাক আইএসআই এজেন্টের কাছে গেল সেটাই ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের।


তাছাড়া বাংলাদেশেও এই পাক নাগরিক গিয়েছিল। সেখান থেকেই অবৈধ পথে সীমান্ত পেরিয়ে এপারে চলে এসেছিল এমন তথ্য হাতে পেয়েছে তদন্তকারীরা বলে সূত্রের খবর। একইসঙ্গে রানাকে ভারতের নথি তৈরি করতে সাহায্য করেছিল কলকাতার তপসিয়ার এক ব্যক্তি। তাকেও ধরে ফেলেছে পুলিশ। ধৃতের নাম মহম্মদ ইজাজ। তাকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই দু’জনের সঙ্গে আরও কেউ আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখার কাজ করছে এখন এসটিএফ। বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডল এবং ঝাড়খণ্ড থেকে অর্পিতা সরকার ধরা পড়ার পর থেকেই চাপে ছিল রানা। তাই সে এবার বাংলাদেশে পালানোর ছক কষছিল। কিন্তু গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসটিএফ বুধবার ভোরে তল্লাশি চালিয়ে বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করে এই রানা রাউতকে। বাংলাদেশে রানার কেউ অপেক্ষা করছিল কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকী পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার সঙ্গে রানার কোনও যোগ ছিল কিনা সেটাও তদন্ত করে দেখছে এসটিএফ। কারণ শুধু পশ্চিমবঙ্গেই ঘাঁটি গেড়ে থাকছিল না রানা। ভারতের নানা প্রান্তেও যাতায়াত ছিল বলে এসটিএফ জানতে পেরেছে। হামিম-অর্পিতার সঙ্গে রানার কোনও যোগ ছিল কিনা সেটা জেরা করে বের করতে চাইছে এসটিএফ বলে সূত্রের খবর।  এই বিষয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘তৃণমূলের আমলে এমন নানা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। সেগুলি এখন ধরা পড়ছে। মানুষকে বলব যেখানে সন্দেহজনক কিছু দেখবেন সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেবেন।’