চলতি বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে চলা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সিপিআই(এম)-নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতায় আগ্রহ প্রকাশ করল অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফ। কংগ্রেস এই জোটে যোগ দিক বা না দিক, তা নির্বিশেষেই বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে আইএসএফ নেতৃত্ব।
একই সঙ্গে রাজ্য বিধানসভায় আইএসএফ-এর একমাত্র বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বামফ্রন্টকে একটি সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে তা আইএসএফ নেতৃত্বকে জানাতে হবে। নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, ‘আসন সমঝোতা নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হওয়া উচিত এবং চলতি মাসের মধ্যেই তা শেষ করার চেষ্টা করা হবে।’
আইএসএফ-এর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই প্রস্তাব শুধুমাত্র সিপিআই(এম)-নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের জন্য। কংগ্রেস এই জোটে থাকবে কি না, তা নিয়ে আইএসএফ বিশেষ আগ্রহী নয়। কারণ রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এককভাবে লড়াই করতে আগ্রহী।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের সঙ্গে ত্রিমুখী জোটে ছিল আইএসএফ। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় আসন সমঝোতা নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে সেই জোট থেকে বেরিয়ে আসে আইএসএফ।
আইএসএফ সূত্রের বক্তব্য, ‘এবার আমরা কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট করতে চাইছি। আদর্শভাবে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী সব শক্তিকে নিয়ে বৃহত্তর জোট হলে ভালো হত। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।’
এদিকে, সদ্য গঠিত জনতা উন্নয়ন পার্টি নিয়ে আইএসএফ-এর অবস্থানও স্পষ্ট। তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর প্রতিষ্ঠিত এই দলের সঙ্গে জোট আলোচনার আগে তাঁর অতীতের সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়া আবশ্যক বলে জানিয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকি।