গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

রান্নার গ্যাস নিয়ে কালোবাজারি ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ সামনে আসতেই কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে গ্যাস মজুত করে রাখলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে মজুতদারদের কাছ থেকে গ্যাস বাজেয়াপ্ত করে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরবরাহ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ আসছিল, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী গ্যাসের সিলিন্ডার গোপনে মজুত করে রেখে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। অনেক জায়গায় গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন।

নবান্নে এক প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে গ্যাস মজুত করে রাখে এবং কালোবাজারির মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার চেষ্টা করে, তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে বাজারে নজরদারি বাড়ানো হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের নিয়ে যৌথ অভিযান চালানোর কথাও বলা হয়েছে। কোথাও গ্যাসের অবৈধ মজুতের খবর মিললে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


প্রশাসনের একাংশের মতে, অনেক সময়ই কিছু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় গ্যাস সিলিন্ডার গুদামে লুকিয়ে রেখে পরে বেশি দামে বিক্রি করার চেষ্টা করে। এতে সাধারণ মানুষের সমস্যা বাড়ে। তাই এই ধরনের প্রবণতা রুখতে এবার কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস রান্নার গ্যাস। সেটাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন অযথা সঙ্কট তৈরি করতে না পারে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হবে।’

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে বাজারে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। কোথাও যদি গ্যাসের কালোবাজারির অভিযোগ ওঠে, তবে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে মজুতদারদের কাছ থেকে গ্যাস বাজেয়াপ্ত করে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হতে পারে।

সরকারের এই কড়া বার্তার পর গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট মহলেও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। অনেকের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরির প্রবণতা অনেকটাই কমবে। সাধারণ মানুষও স্বস্তি পাবেন।