বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরে ২১ জুলাই এবং ২৮ আগস্ট জনসভা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এখন দলের আগের নাম-প্রতীক ফ্রিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। তারপর প্রথমবার হুগলিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করতে চলেছেন। কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতিতে শনিবার শ্রীরামপুর কোর্টের মাঠে জনসভা করবেন নেত্রী। তাই সেখানে এখন চলছে জোরকদমে মঞ্চ বাঁধার কাজ। বিকেল ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত সভা হবে। এই জনসভার আগে গ্রেপ্তার করা হল এলাকার এক তৃণমূল নেত্রীকে। চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে ডানকুনি থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে টুম্পা মেটেকে। তিনি তৃণমূলের হুগলি জেলা পরিষদের প্রাক্তন সদস্যও। স্কুল সার্ভিস কমিশনের অযোগ্য চাকরিপ্রাপকের তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল বলে সূত্রের খবর।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ একহাজার লোক নিয়ে জনসভা করা যাবে। যদিও নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে মাঠে জল জমে গিয়েছে। তবে তার মধ্যেই হুগলি শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার কালীঘাট-তৃণমূলের আহ্বায়ক অসিত মজুমদারের নেতৃত্বে চলছে মঞ্চ গড়ে তোলার কাজ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার আগেই চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় জেলা পরিষদের প্রাক্তন তৃণমূল সদস্য টুম্পা মেটেকে। যদিও এই অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যে বলে দাবি করেছে তৃণমূল। রিষড়ার বামুনারি এলাকায় টুম্পা মেটের বাড়ি। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে টুম্পার একটি বাক্য, ‘সব মিথ্যা কথা।’
এই জনসভার আগে টুম্পা মেটের গ্রেপ্তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। কারণ এখানে মহিলাদের জড়ো করার দায়িত্ব ছিল তাঁর। এই বিষয়ে অসিত মজুমদার বলেন, ‘কলকাতা হাইকোর্ট ২৬ সেপ্টেম্বর এই মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। তবে শ্রীরামপুর থানার আইসি কোনও অনুমতি দেননি। অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে জনসভা করতে হচ্ছে। মাইক লাগানো, মঞ্চ তৈরির কাজ সব একদিনে করতে হচ্ছে। বিচারব্যবস্থার উপরে আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।’ আর এই গ্রেপ্তার আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং চক্রান্ত বলে দাবি করে টুম্পা বলছেন, ‘সারা বাংলায় যা হচ্ছে, আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।’
তাছাড়া টুম্পা মেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিজে সাদা খাতা জমা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। এসএসসি’র ২০১৬ সালের যে প্যানেল দুর্নীতির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে সেটাতে টুম্পার নাম ছিল। তিনি অশিক্ষক কর্মী হিসেবে স্কুলে কাজ করছিলেন। তবে এদিনের জনসভা নিয়ে অসিত মজুমদারের বক্তব্য, ‘কলকাতা হাইকোর্ট একহাজার লোকের কথা বলেছে। আমরা ১ হাজার লোকই আনছি। তার বেশি আনব না। এখন আরও লোক যদি দিদিকে দেখতে চলে আসে সেটা আলাদা ব্যাপার। আর বিজেপি তো চুরি করে ভোটে জিতেছে। যদি সৎভাবে জিতত তাহলে অন্য দলের সভা আটকাত না। আমাদের সময় তো বিজেপি সভা করেছে। পুলিশ কোথাও আটকায়নি। শনিবার থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা সফর শুরু হচ্ছে। তাঁর নির্দেশেই আমরা কাজ করব।’