দুর্গাপুজোর আগেই ভোট বাংলায়, ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচন

Nandigram-Rejinagar By-Election Photo-SNS

দুর্গাপুজোর আগেই ভোটের ঢাকে কাঠি। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর, দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সোমবার কমিশনের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানা গিয়েছে, ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গ-সহ তিন রাজ্যের পাঁচ বিধানসভা এবং একটি লোকসভা আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ফলপ্রকাশ ৯ অক্টোবর।

উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারীর ইস্তফায় নন্দীগ্রাম এবং হুমায়ুন কবীরের ইস্তফায় রেজিনগর আসনটি শূন্য হয়েছিল। এপ্রিলে হওয়া নির্বাচনে শুভেন্দু নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। দু’টিতেই জয়ী হলেও পরে তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন। রেজিনগর খালি হয় আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের পদত্যাগে। তিনি রেজিনগরের সঙ্গে নওদা দু’টি আসনে লড়ে দু’টিতেই জেতেন। পরে রেজিনগর কেন্দ্রে ইস্তফা দেন। এপ্রিলের ভোটে বদলে গিয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম কোনও ভোট হতে চলেছে। সে কারণে দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন নিয়ে নজর রয়েছে গোটা রাজ্যের। প্রার্থী বাছাই থেকে প্রচারের কৌশল, সব কিছু নিয়েই ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে যুযুধান রাজনৈতিক দলগুলি।

কমিশনের বিজ্ঞপিতে বলা হয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর। ১৭ সেপ্টেম্বর সেগুলি পরীক্ষা করে দেখা হবে। প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৯ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ দুর্গাপুজোর আগেই ভোটের ময়দানে ঝাঁপাতে হবে রাজনৈতিক দলগুলিকে।


বাংলার দুই বিধানসভা আসনের পাশাপাশি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির থাট্টানচাভাড়ি এবং তামিলনাড়ুর মাদুরান্তকাম ও ধারাপুরম কেন্দ্রেও উপনির্বাচন হবে। উপনির্বাচন হবে অসমের নওগাঁও লোকসভা কেন্দ্রেও। পদত্যাগের কারণেই এই আসনগুলি শূন্য হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলির চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের ১০ দিন আগে পর্যন্ত আবেদন করলে ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ মিলবে। সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারির সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলিতে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়েছে। যথারীতি প্রতিটি বুথে ইভিএমের সঙ্গে থাকবে ভিভিপ্যাট মেশিন। সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্র ছাড়াও আধার ও প্যান কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স-সহ ১২টি বিকল্প নথি দেখিয়েও ভোট দেওয়া যাবে।

অপরাধের মামলা রয়েছে এমন প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এবার কড়া নজরদারি থাকছে কমিশনের। প্রচারের সময় সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশনে তিন দফায় নিজেদের অপরাধের খতিয়ান প্রকাশ করতে হবে তাঁদের। প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট দিনের পর প্রথম চার দিনের মধ্যে একবার, পঞ্চম থেকে অষ্টম দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার এবং নবম দিন থেকে প্রচারের শেষ পর্যন্ত তৃতীয়বার সেই তথ্য প্রকাশ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলিকেও নিজেদের ওয়েবসাইটে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেই তথ্য প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে গত ১০ বছরে সরকারি আবাসন ব্যবহার করেছেন এমন প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট দফতরের ‘নো-ডিউস’ শংসাপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা, নন্দীগ্রাম আসনে বিজেপির জয় নিয়ে কোনও সংশয় নেই। তবে, জনবিন্যা সের কারণে রেজিনগর বিজেপির জন্য কিছুটা কঠিন।