বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলায় নাম জুড়ল মমতার

পুত্র বরুণের ছবির সঙ্গে অসহায় বাবা

সুটিয়ায় নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মুখ বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলায় নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল। এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বনগাঁর পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন বরুণের অন্যতম সহযোদ্ধা, পেশায় শিক্ষক নন্দদুলাল দাস। তাঁর অভিযোগ, প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কারণেই ২০১২ সালের এই বহুলচর্চিত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত তদন্ত হয়নি। অভিযোগপত্রটিকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে নতুন করে তদন্ত শুরুর দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

নন্দদুলাল তাঁর অভিযোগপত্রে লিখেছেন, বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের মূল দুই ষড়যন্ত্রকারী হলেন, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও ওই হত্যাকাণ্ডে যুক্ত হলেন, তপন সিংহ, প্রদীপ ঘোষ, বিষ্ণু ঘোষ, সুখেন বালা, ধ্যানেশ গুহ, মিহির বিশ্বাস, দেবেন ঘোষ। ষড়যন্ত্রে আরও অনেকে যুক্ত বলেও অভিযোগ।

নন্দদুলালের আরও দাবি, বরুণ বিশ্বাসের খুনের ঘটনায় প্রতিবাদে মুখ খুলে তাঁকেও হেনস্থা, হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছিল। তৃণমূল সরকারের আমলে তাঁকে একাধিকবার ভয় দেখানো হয়েছিল। মাওবাদী তকমা দিয়ে মিথ্যা মামলাও তাঁর নামে করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।


রাজ্যে পালাবদলের পর বরুণ বিশ্বাসের পরিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মামলার পুনর্তদন্তের আবেদন জানায়। এরপরই সিআইডি তদন্তে সক্রিয় হয় এবং গোবরডাঙায় বরুণের বাড়িতেও যান তদন্তকারীরা। আগামী ৩১ আগস্ট বনগাঁ আদালতে মামলার শুনানি রয়েছে। সেদিন বরুণের বাবার সাক্ষ্য গ্রহণ হওয়ার কথা। পুলিশ সূত্রে খবর, নন্দদুলালের অভিযোগ এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে আদালতের শুনানির পর সিদ্ধান্ত হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বরুণের দিদি প্রমীলা রায় বিশ্বাস বলেন, প্রতিবাদ জানানোর অধিকার সকলের রয়েছে। নন্দদুলাল তাঁর নিজস্ব উদ্যোগে আইনি পদক্ষেপ করেছেন। তবে এই বিষয়ে বিশ্বাস পরিবারের আলাদা কোনও অবস্থান নেই।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৫ জুলাই উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা স্টেশনের কাছে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশন (মেন)-এর বাংলার শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। সুটিয়ায় নারী নির্যাতন ও গণধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠা বরুণ দুর্নীতির বিরুদ্ধেও সরব ছিলেন। পরিবারের দাবি, সেই কারণেই পরিকল্পিতভাবে তাঁকে খুন করা হয়। এই ঘটনার পরেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় রাখে তৎকালিন শাসক দল।