দেশজুড়ে বিজেপির এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এই জেন-জিদের চাপেই শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে সরাতে হয়েছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। তারপর একটু নিশ্চিন্তে শ্বাস নেবেন বলে ভেবেছিলেন বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা। তার মধ্যেই ফাঁস হয়ে গেল ভোট চুরির বিষয়টি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস দৈনিক সামনে নিয়ে আসে এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন। তারপর থেকেই গোটা দেশে আছড়ে পড়েছে নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদের ঢেউ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে পথে নেমেছে সব বিরোধী রাজনৈতিক দল। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক থেকে দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ নানা জায়গায় আন্দোলন করছে। এই আবহে রবিবার সেই আন্দোলন থামিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী।
ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা আইনজীবীর হুঁশিয়ারির জবাব অবশ্য এখনও দেয়নি ককরোচরা। এদিকে নয়াদিল্লি, মুম্বাই থেকে শুরু করে ককরোচদের আন্দোলন কলকাতায় আছড়ে পড়তে পারে। আর তার আগে এদিন বিজেপি বিধায়কের দাবি, দাবি যাইহোক না কেন, আদতে এই আন্দোলনের পিছনে রয়েছে একাধিক শক্তি। বিদেশ থেকে আসা অর্থ থেকে শুরু করে বিরোধী শক্তির সমর্থন আছে। মুম্বাইতে ককরোচদের ওই আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ, বিশাল দাদলানির মতো তারকারা। এবার সেই প্রসঙ্গ তুলে কৌস্তভ বাগচীর তোপ, ‘অনেকে এরকম আছে। বিশাল দাদলানি, নাসিরুদ্দিন শাহ, যাদের মানুষের কাছে কোনও অ্যাকসেপ্টেন্স নেই, তারা বাচ্চা ছেলেমেয়েদের দিয়ে পারসেপশন তৈরি করতে চাইছে। এসবের পিছনে বিদেশি ফান্ডও আছে। বাচ্চা ছেলেমেয়েদের বিপথে চালিত করছে। এদের পিছনে এত টাকা, এত লোকবল কোথা থেকে আসছে?’
পরিস্থিতি এখন যে জায়গায় গিয়েছে তাতে ককরোচরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ছাড়বে না। আবার দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও পথে নেমে পড়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর দেশের তামাম বিরোধী সাংসদরা নির্বাচন কমিশন চলো ডাক দিয়েছে। আবার ককরোচরা মহালয়ার দিন আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। সুতরাং গোটা দেশে একটা অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়কের দাবি, ‘আসলে এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট। ভারত যে অগ্রগতির পথে যাচ্ছে, সেটা ভেঙে ফেলতেই চক্রান্ত করা হচ্ছে। এত আন্দোলনের পরও দেশের একাধিক কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এবিভিপি জিতেছে।’
ককরোচ জনতা পার্টিকে ঠেকাতে পারছে না বিজেপি বলে মনে করা হচ্ছে। তাই তা নিয়ে চাপে পড়েছে বলে বিরোধীদের মত। কিন্তু ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়কের বক্তব্য, ‘সিজেপির এই ধরনের মুভমেন্ট ক্রাশ করতে পাঁচ সেকেন্ড লাগবে। আরশোলা মাকড়সাদের দুরমুশ করতে লাগবে পাঁচ সেকেন্ড। কিন্তু আন্দোলন করার অধিকার সবার আছে, তাই সরকার সহনশীলতা দেখাচ্ছে। আন্দোলনের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করা হচ্ছে। ওদের মাথায় রাখা উচিত বাড়িতে আরশোলা-মাকড়সা হলে, সবার বাড়িতেই কিন্তু বেগন স্প্রে, হিট স্প্রে থাকে। বেশি উৎপাত হলে সেগুলি প্রয়োগ করা শুরু হবে।’