হাতে আর তিনদিন। তারপরই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে যাবে কালীপুজো। ৮ নভেম্বর কালীপুজো। তাই পুলিশ-প্রশাসন প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছে। কালীপুজোয় নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে বারাসত জেলা পুলিশ। কারণ এখানে প্রচুর পরিমাণে কালীপুজো হয়। উৎসবের ভিড়ে অপরাধ ঠেকানো, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বারাসত এবং মধ্যমগ্রামকে নিয়ে তৈরি হয়েছে নিরাপত্তার ব্লু-প্রিন্ট। তাই পুজো এবং প্রতিমা দর্শনের দিনগুলিতে কমপক্ষে আড়াই হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকছে। এমনকী অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষদের গাড়িতে করে ঠাকুর দেখানোর ব্যবস্থা করছে পুলিশ।
বারাসতে এবার কালীপুজো এবং উৎসব পাঁচদিনের। বুধবার থেকে বিশেষ অভিযানে নামছে বারাসত জেলা পুলিশ। নানা হোটেল, লজ ও গেস্ট হাউসে চলবে তল্লাশি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং নানা এলাকায় শুরু হবে নাকা চেকিং। সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীরা নানা এলাকায় নজরদারি চালাবেন। আর বারাসত থানার আইসি অনুপম চক্রবর্তীর নেতৃত্বে এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শহরের নানা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, জনবহুল এলাকা এবং স্পর্শকাতর স্থানগুলিতে বাড়তি নজর রাখছে পুলিশ। দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়লে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একাধিক কালীপুজো কমিটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
কালীপুজোর ভিড়ের সুযোগ নিয়ে পকেটমারি, ছিনতাই, চুরির মতো অপরাধ বাড়ে। কালীপুজোকে কেন্দ্র করে বারাসতে বহু মানুষ পরিবারের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়েন। তখন ফাঁকা বাড়িতে চুরি হয়। এই সমস্ত অপরাধের মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই কয়েকটি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই সব জায়গায় বাড়ানো হচ্ছে নজরদারি। মোটরবাইকে করে পুলিশের বিশেষ টহলদারি দল নানা এলাকায় এখন থেকেই ঘুরছে। কালীপুজো কমিটিগুলিকে সতর্ক করেছেন বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বার্তা, চোরবাগানের মতো ঘটনা বারাসতে ঘটতে দেওয়া যাবে না। বারাসতের কালীপুজো যেন কলঙ্কিত না হয়।
তাছাড়া কলকাতা-সহ নানা জেলা থেকে বারাসতে এসে কালীপুজো দেখেন মানুষজন। তাই এখানের নিরাপত্তা কড়া করছে জেলা পুলিশ। এই বিষয়ে বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার দুর্বার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কালীপুজোয় সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে এবং শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উপভোগ করতে পারেন সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। ভিড় ও মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবেই পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। অপরাধ দমনে বিশেষ নজরদারি, নাকা চেকিং এবং সাদা পোশাকে পুলিশকর্মীদের টহল চলবে। অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষমদের ঠাকুর দেখানোর পরিকল্পনা নিয়েছি আমরা।’