তৃণমূলের নাম-প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, অন্তর্বর্তী নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

Image: SNS

তৃণমূলের (TMC) অন্দরের বিবাদে বড় ধাক্কা। দলের নাম ও প্রতীক ব্যবহারে দুই গোষ্ঠীর উপরেই নিষেধাজ্ঞা জারি করল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার জারি করা অন্তর্বর্তী নির্দেশে কমিশন জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং ঋতব্রত (Ritabrata Banerjee) গোষ্ঠী—কেউই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি একক ভাবে ব্যবহার করতে পারবে না। একই সঙ্গে ‘জোড়াফুল’ প্রতীকও ব্যবহার করা যাবে না। উপনির্বাচনকে সামনে রেখে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই গোষ্ঠীকেই নিজেদের জন্য পৃথক নাম বেছে নিতে হবে। সেই সঙ্গে উপনির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে থাকা মুক্ত প্রতীকগুলির তালিকা থেকে আলাদা প্রতীক বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই অন্তর্বর্তী নির্দেশই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিবাদের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

আরও পড়ুন: বেলুড় মঠে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ, আজও তাঁর ঐতিহ্য বহমান


দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই গোষ্ঠীর দাবি

নির্বাচন কমিশনে দায়ের হওয়া মামলাটি ১৯৬৮ সালের নির্বাচন প্রতীক (সংরক্ষণ ও বরাদ্দ) আদেশের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে। এক দিকে রয়েছেন অরূপ রায় ও তাঁর সঙ্গে থাকা আবেদনকারীরা, অন্য দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর গোষ্ঠী। দুই পক্ষই নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বৈধ প্রতিনিধি বলে দাবি করেছে।

কমিশনের নথি অনুযায়ী, গত ২২ জুন কলকাতার একটি হোটেলে বিশেষ অধিবেশন ডেকে অরূপ রায়কে জাতীয় কর্মসমিতির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার দাবি করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। তাঁর বক্তব্য ছিল, তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির মেয়াদ ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে গিয়েছে। ফলে তার পর ওই কর্মসমিতির নামে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও নিয়োগের সাংবিধানিক বৈধতা নেই।

অন্য দিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)  পক্ষ থেকে কমিশনে জানানো হয়, অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান করে গঠিত কর্মসমিতি এবং ওই বিশেষ অধিবেশনে নেওয়া সিদ্ধান্ত দলের সংবিধানবিরোধী। ওই দাবিগুলি খারিজ করার আর্জি জানানো হয়।

উপনির্বাচনে একই নামে দুই প্রার্থী

বিবাদের জেরে উপনির্বাচনে প্রতীক ও দলের নাম নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। কমিশনের নির্দেশে বলা হয়েছে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে দুই পক্ষের প্রার্থীরা তৃণমূলের নামে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এক পক্ষের ফর্ম-বি-তে অরূপ রায়ের অনুমোদন, অন্য পক্ষের ফর্ম-বি-তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অনুমোদন রয়েছে।

আসামের নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রেও তৃণমূলের (TMC) নামে মনোনয়ন জমা পড়েছে। ফলে দ্রুত প্রতীক ও নাম সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে বলে কমিশনের নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মান্দালায় জেলে বসে দুর্গাপুজো করেছিলেন সুভাসচন্দ্র বসু

১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব

কমিশন জানিয়েছে, দুই গোষ্ঠীকেই ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে নিজেদের গোষ্ঠীর নামের তিনটি বিকল্প পছন্দের ক্রমে জানাতে হবে। একই ভাবে উপনির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য তিনটি করে মুক্ত প্রতীকের নামও দিতে হবে। সেই তালিকা থেকে কমিশন নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করবে।

কমিশনের পর্যবেক্ষণ, তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)  নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং অরূপ রায়ের (Arup Roy) নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী—দুই পক্ষই নিজেদের দল বলে দাবি করছে। এই বিবাদের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আরও বিস্তারিত শুনানি প্রয়োজন। সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকে সমান অবস্থানে রেখে উপনির্বাচনের কাজ এগিয়ে নিতে এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

দেখুন: ‘মমতার হাতে দলের জন্ম, ঋতব্রত কী করে জনক?’ নির্বাচন কমিশনে সওয়াল কল্যাণের!