মোথাবাড়ি কাণ্ডে শাহাজাহান আলির জামিনের আবেদন খারিজ

মোথাবাড়ি কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত মৌলানা শাহাজাহান আলির জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ শাব্বার রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি এবং মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে এই মুহূর্তে তাঁকে জামিন দেওয়া সম্ভব নয়।

বর্তমানে এই মামলার তদন্ত করছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। অভিযুক্তের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও আইনজীবীর শামীম আহমেদ আদালতে দাবি করেন, তদন্ত কার্যত শেষ। তাই অভিযুক্তকে দীর্ঘদিন হেফাজতে রাখার আর কোনও প্রয়োজন নেই। তাঁর আরও দাবি, এই মামলায় যে অভিযোগগুলি আনা হয়েছে, সেগুলি এনআইএ আইনের তালিকাভুক্ত অপরাধ নয়।

অন্যদিকে, এনআইএ-র পক্ষে আইনজীবী অরুণ কুমার মাইতি আদালতে জানান, তদন্ত এখনও চলছে। তাই এই পর্যায়ে অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া উচিত হবে না। তিনি বলেন, মামলার ডায়েরিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় মৌলানা শাহাজাহান আলি ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন। তিনি জনসমাগমকে উসকানি দিয়ে অপরাধমূলক কাজ করতে উৎসাহিত করেছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।


এনআইএ জানায়, অন্তত দু’জন সুরক্ষিত সাক্ষী এবং এক পুলিশকর্মী তাঁদের বয়ানে অভিযুক্তের ঘটনাস্থলে উপস্থিতির কথা বলেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর ভূমিকারও বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে সেই বয়ানে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ইলেকট্রনিক প্রমাণ এবং কল ডিটেল রেকর্ড (সিডিআর)-ও সাক্ষীদের বক্তব্যকে সমর্থন করছে। ডিজিটাল তথ্য থেকে প্রাথমিকভাবে দেখা গিয়েছে, ঘটনার সময় অভিযুক্ত ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং সহ-অভিযুক্তদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন।

 

আদালতে এনআইএ আরও জানায়, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনকারী বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের জেরে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে  কলকাতা হাইকোর্ট থেকে বিষয়টি বিষয়টি গ্রহণ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। তারপরেই ৬ এপ্রিল ২০২৬ মোথাবাড়ির ঘটনাসহ একাধিক এফআইআরের তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। পরে ১১ মে তদন্ত দ্রুত শেষ করে দু’মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেয় দেশের শীর্ষ আদালত। তবে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি বলে আদালতে জানিয়েছে এনআইএ। তাই রিপোর্ট জমা করতে আরো কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলেও জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

 

সব দিক বিবেচনা করে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, মামলার ডায়েরিতে থাকা নথি থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তদন্তও এখনও অসম্পূর্ণ। তাই এই পর্যায়ে তাঁকে জামিন দেওয়া যুক্তিসঙ্গত হবে না। সেই কারণেই মৌলানা শাহাজাহান আলির জামিনের আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট আপিল, দু’টিই খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।