বিধানসভার সই কাণ্ডে তদন্তে সহযোগিতা করতে রবিবার ফের সিআইডি দপ্তর ভবনী ভবনে হাজিরা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে দুপুর ১২টায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই তিনি সেখানে পৌঁছে যান।
সকাল ১১টা ৪৩ মিনিটে অভিষেকের গাড়ি ভবানী ভবনে ঢোকে। রিসেপশনে পরিচয়পত্র দেখিয়ে হাজিরার নথিতে স্বাক্ষর করেন তিনি। তারপর সিআইডি আধিকারিকদের মুখোমুখি হন সাংসদ। গোটা ভবানী ভবন চত্বর নিরাপত্তা চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রেফ মোতায়েন করা হয়। এই মামলায় কলকাতা
হাইকোর্ট অভিষেককে তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি আদালত জানায়, আগামী দুই সপ্তাহ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না সিআইডি। সেই নির্দেশের পরই দ্বিতীয়বারের মতো তদন্তকারীদের সামনে হাজির হলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবারও ভবানী ভবনে গিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিষেক। দিল্লি থেকে ফিরে তিনি সরাসরি সিআইডি দপ্তরে যান। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে কালীঘাটে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও গিয়েছিলেন। সেদিনই তাঁকে জানানো হয়েছিল যে রবিবার আবার হাজিরা দিতে হবে।
তবে সিআইডির তলব এখানেই শেষ নয়। অন্য একটি মামলায় তাঁকে আগামী ১৬ জুনও হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। তাঁর এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সল্টলেকে দায়ের হওয়া অভিযোগের তদন্তে এই তলব। সেই সংক্রান্ত নোটিস ইতিমধ্যেই তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগ। পাশাপাশি, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে ১৫ জুন হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে ইডি। ফলে আগামী কয়েক দিনে একাধিক তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হতে হতে পারে তাঁকে।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রসঙ্গে তৃণমূল পরিষদীয় দলের তরফে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া একটি চিঠিকে ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। ওই চিঠিতে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষরে অসঙ্গতি থাকার অভিযোগ ওঠে। কেউ কেউ দাবি করেন, তাঁদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে আবার কিছু নাম ব্লক লেটারে লেখা ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে।
ওই চিঠিতেই দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সইও ছিল। সেই কারণেই তদন্তকারীরা তাঁকে একাধিকবার তলব করেন। প্রথম দিকে তিনি হাজিরা দেননি এবং আদালতের দ্বারস্থ হন। পরে আদালতের নির্দেশ মেনে তদন্তে সহযোগিতা করেন।
এদিকে শনিবার গভীর রাতে অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায়কে খুঁজতে কালীঘাটে তাঁর বাড়িতে পৌঁছয় শালবনি থানার পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, সুমিতের মোবাইল ফোনের শেষ অবস্থান ওই বাড়ির আশেপাশেই ছিল। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে ভোরের দিকে বাড়ির তালা ভেঙে তল্লাশি চালানো হয়।
খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে কয়েক ঘণ্টার তল্লাশির পর পুলিশ খালি হাতেই ফিরে যায়। অভিষেকের বাড়ি থেকে কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। মেলেনি আপ্তসহায়ককেও হদিশও।
এদিকে, আজই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে তলব করেছে সিআইডি। তাঁর বিকেল ৩ টে নাগাদ যাওয়ার কথা আছে ভবানী ভবনে।
১৬ জুন ফের সিআইডি দপ্তরে আসতে হবে অভিষেককে। তাঁর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সল্টলেকে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। প্রথমে পুলিশ তদন্ত করলেও পরে তা চলে যায় সিআইডির হাতে। অভিষেকের বাড়িতে গিয়ে নোটিসও দেয় সিআইডি।
অন্যদিকে ১৫ জুন প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেককে তলব করেছে ইডি। এই দুই মামলায় আপাতত অভিষেকের কোনও রক্ষাকবচ নেই।