কোথাও ট্রাকের ধাক্কা, কোথাও পথচারীর ওপর উঠে গেল বাইক: দশমীতে পুরুলিয়ায় মৃত্যুমিছিল, প্রশ্নের মুখে পুলিশ

At least 6 persons died in road accidents in Purulia on Dashami (Image: Pexels/@Vindar van Ool)

বিজয়া দশমীর রেশ কাটতে না কাটতেই চরম বিষাদের ছায়া নামল পুরুলিয়া জেলাজুড়ে। উৎসবের শেষ রাতে জেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পর পর ভয়াবহ পথ-দুর্ঘটনায় (Purulia road accident) প্রাণ হারালেন অন্তত ছয় জন। কোথাও দ্রুতগতির বাইকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে পণ্যবাহী ট্রাক বা অটোর, কোথাও আবার নিয়ন্ত্রণহীন বাইক সরাসরি পিষে দিয়েছে পথচারীকে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই আঠারো থেকে বাইশ বছর বয়সি তরুণ এবং নাবালক। এর পাশাপাশি নবমীর রাতে বাইকের ধাক্কায় জখম আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বুধবার। সব মিলিয়ে পুজোর বিদায়লগ্নে পুরুলিয়ায় ঝরে গেল সাতটি প্রাণ।

ট্রাক, গাড়ি ও অটোর ধাক্কায় মৃত্যুমিছিল

 দশমীর রাতে সবচেয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে পুরুলিয়া মফস্‌সল থানার অন্তর্গত আইমুন্ডি এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, দ্রুতগতিতে আসা একটি বাইকের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে একটি ট্রাকের। সংঘর্ষের তীব্রতায় রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন দুই বাইক আরোহী তরুণ। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম শান্তিরাম মাহাতো (২২) এবং রহিন মাহাতো (১৮)। তাঁদের দু’জনেরই বাড়ি জয়পুর থানার পালঞ্জা গ্রামে। প্রতিমা নিরঞ্জনের আনন্দ নিমেষেই বদলে যায় দুই পরিবারের হাহাকারে।


 অন্য একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে টামনা থানার ভাদসা মোড়ে। সেখানে একটি চারচাকা গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর জখম হন তিন বাইক আরোহী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিন জনকেই উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় কৃষ্ণকমল মাহাতো (১৯) নামে এক তরুণের। তাঁর বাড়ি কেন্দা থানা এলাকায়। ওই ঘটনায় জখম অপর দুই আরোহী এখনও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। অন্যদিকে হুড়া থানার জামবাদ এলাকায় একটি অটোর সঙ্গে বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান ভগবত মাহাতো নামে এক ব্যক্তি। পুরুলিয়া মফস্‌সল থানার বাঁধগড় গ্রামের বাসিন্দা ওই ব্যক্তিকে গুরুতর আহত অবস্থায় পুরুলিয়া মেডিক্যাল-কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বেপরোয়া বাইকের বলি নাবালক

 শুধুমাত্র বাইক আরোহীরাই নন, দশমীর রাতে বেপরোয়া বাইক চালকদের (reckless bike riding) দৌরাত্ম্যে প্রাণ গিয়েছে নিরীহ পথচারী ও নাবালকেরও। মানবাজার থানার পাথরকাটা গ্রামে একটি দ্রুতগতির বাইকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে কিশোর দীপ ওরাং নামে এক নাবালক। পরে তার মৃত্যু হয়।

 একই ছবি দেখা গিয়েছে পারা থানা এলাকাতেও। সেখানে বাইকের ধাক্কায় গুরুতর জখম হয়ে প্রাণ হারান ভজন বাউড়ি (১৯) নামে এক তরুণ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত তরুণের বাড়ি সাঁওতালডি থানার পাবড়া গ্রামে। এ ছাড়াও গত মঙ্গলবার অর্থাৎ নবমীর রাতে রঘুনাথপুর থানার নন্দুয়াড়া এলাকায় বাইকের ধাক্কায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন সর্দার আলি নামে এক ব্যক্তি। আসানসোল দক্ষিণ থানার কুমারপুরের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি বুধবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

মত্ত অবস্থায় গতির নেশা

 কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জেলাজুড়ে কেন এতগুলি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে একটাই কারণ, উৎসবের রাতে মত্ত অবস্থায় (drunken driving) এবং হেলমেট ছাড়াই চরম বেপরোয়া গতিতে বাইক চালানো।

 পুরুলিয়া জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পুজোর দিনগুলিতে নাকা-চেকিং ও সতর্কতামূলক প্রচার চালানো সত্ত্বেও দশমীর রাতে বহু ক্ষেত্রেই ট্রাফিক নিয়ম মানা হয়নি। মত্ত অবস্থায় গতির নেশায় বাইক চালানোর জেরেই অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। প্রতিটি পৃথক ঘটনারই বিশদে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং ঘাতক গাড়ি ও বাইকগুলিকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে।