‘মমতা আর জীবনে আসবে না, রাহুল পাগল’, কোচবিহারে পা রেখে তোপ আসামের মুখ্যমন্ত্রীর

Assam CM Himanta Biswasharma Photo-SNS

রাজ্যে এখন উপনির্বাচনের আবহ। রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন। তার আগে কোচবিহারে পা রাখলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। এই উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের সঙ্গে নন্দীগ্রাম আসনে জোট হয়েছে কংগ্রেসের। অর্থাৎ কংগ্রেসের প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন তৃণমূলনেত্রী। আর রেজিনগরে একা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তৃণমূল। এই আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল গান্ধীকে একযোগে আক্রমণ করলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর বাংলার ক্ষমতায আসবে না এবং রাহুল গান্ধী পাগল এমনই মন্তব্য করলেন তিনি। যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রীর এমন ভবিষ্যদ্বাণী এবং তার সঙ্গে লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে আক্রমণ করার জেরে এখন সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গে আর ক্ষমতায় ফিরবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলার পাশাপাশি মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন প্রতীক নিয়েও খোঁচা দেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। আসামের মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, ‘জোড়াফুল তো গেল এবার ফুটবলও থাকবে না। পাংচার হয়ে যাবে। রাহুল পুরো পাগল, দেখলেই হাসি পায়।’ শনিবার কোচবিহারে দাঁড়িয়ে এমন মন্তব্য করার জেরে মমতার দল এবং কংগ্রেস নেতারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তবে কোনও প্রতিক্রিয়া তাঁরা জানাননি।

এখন পশ্চিমবঙ্গে ডবল ইঞ্জিন সরকার। সেখানে শনিবার কোচবিহারের মধুপুরে বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারক শঙ্করদেবের সমাধিস্থল পরিদর্শন করেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। এখানে মধুপুর সত্র উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার বার্তাও দেন হিমন্ত। রাজ্যে উপনির্বাচনের আগে হওয়া রাজনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে হিমন্তকে প্রশ্ন করা হয়। তখন আসামের মুখ্যমন্ত্রীর খোঁচা, ‘মমতা তো চলে গিয়েছে। আর জীবনে আসবে না। ওঁর কথা ভুলে যাও। মমতার কথা চিন্তা করলে ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাবে। এখন শুভেন্দু উন্নয়ন করবে আর মমতা বসে বসে দেখবে কেমনভাবে উন্নয়ন হচ্ছে। জোড়াফুল তো গেল, ফুটবলও থাকবে না।’


তাছাড়া বিজেপির বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাহুল গান্ধী। মোদী-শাহকেও তাঁরা আক্রমণ করে থাকেন। সাংসদের ভিতরে-বাইরে রাহুলের পাশে থাকতে দেখা গিয়েছে মমতার দলের সাংসদদের। তাই মমতার পাশাপাশি রাহুলকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি আসামের মুখ্যমন্ত্রী। এদিন হিমন্ত বিশ্বশর্মার তোপ, ‘খুনের মামলার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে ডান্ডাও দেওয়া উচিত। ২০০৭ সালে রাহুল গান্ধী কি মিলন প্রধানকে মার্ডার করার লাইসেন্স দিয়েছিল? পুলিশের কাজ তো পুলিশকে করতে হবে। রাহুল গান্ধী পুরো পাগল। ওঁকে দেখলেই হাসি পায়। কখনও দাড়ি রাখেন, কখনও ক্লিন শেভড। কখনও ভারতে, কখনও বিদেশে। পুরো পাগল মানুষ।’