রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা থেকে শুরু করে কর্মী এবং কাউন্সিলররা গ্রেপ্তার হতে শুরু করেছে। তোলাবাজি থেকে শুরু করে নানা দু্র্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এই আবহে শনিবার গ্রেপ্তার হলেন অশোকনগর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকার। পুরসভার ফাইল এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি পোড়ানোর অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। নিজের বাড়িতেই প্রবোধ সরকার ফাইল পোড়াচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা সেটা দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
এদিকে এই ঘটনা দেখে পুলিশে খবর দিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়ি ঘেরাও করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অশোকনগর থানার পুলিশ আসার আগে এভাবেই ঘেরাও করে সোচ্চার হতে থাকেন তাঁরা। আর তাঁকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার দাবি তুলতে থাকেন তাঁরা। তারপরই পুরসভার চেয়ারম্যানকে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তবে তাঁর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি পুলিশ অফিসাররা। তাই গ্রেপ্তার করা হয় প্রবোধ সরকারকে। এদিনই তাঁকে বারাসত আদালতে তোলা হচ্ছে।
অন্যদিকে বারবার দেখা গিয়েছে, তৃণমূল নেতাদের গ্রেপ্তারের পর ডিম ছোঁড়া, গোবর ছোঁড়া থেকে শুরু করে পচা টমেটো ছোঁড়া এবং চোর চোর স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সেটা দেখা গেল না। প্রবোধ সরকারের গ্রেফতারের খবর চাউর হতেই অশোকনগরজুড়ে রীতিমতো উৎসবের মেজাজ দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা আনন্দে একে অপরকে লাড্ডু খাইয়ে দেন। এই নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাছাড়া যে বাড়িতে প্রবোধ সরকার থাকেন সেই বাড়িতেই নথি-ফাইল পোড়ানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। সরকারি নথি পুড়িয়ে প্রমাণ লোপাট করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, রাতের অন্ধকারে পুরপ্রধান প্রবোধ সরকারের বাড়ির পিছনের বাগানে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তা দেখে পুলিশে খবর দেন। আর সেখানে পৌঁছন বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। তাঁরা প্রবোধের বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে ডাকাডাকি করতে থাকেন। অশোকনগর থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছনোর আগে স্থানীয় কিছু বাসিন্দারাও জড়ো হন। তাঁরা চিৎকার জুড়ে দেন। তখন বেরিয়ে আসেন প্রবোধ সরকার। আর তাঁর সাফাই, বাগানে তিনি নোংরা পরিষ্কার করে শুধু ‘শুকনো পাতা’ পোড়াচ্ছিলেন। এখানেই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে তা রাতের অন্ধকারে কেন? যার কোনও উত্তর দিতে পারেননি তিনি। তখন পুলিশ তাঁকে নিয়ে থানায় চলে যায়। শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।