হাতে গোনা আর পাঁচদিন। তারপরই দুর্গাপুজোয় মেতে উঠবে রাজ্যের মানুষজন। কিন্তু তার প্রাক্কালে ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটে গেল। দুর্গাপুজোর চাঁদা দাবি করা হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করেন গৃহকর্তা। আর তার জেরে তাঁকে বাড়িতে ঢুকে মারধর করা হয়। এমনকী বাড়ির মহিলাদের শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্ত পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর-কল্যাণগড় এলাকায় এই ঘটনা নিয়ে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। এমনকী এই ঘটনার পরেই থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। যদিও অভিযুক্তরা ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বাড়িতে ঢুকে এসে যে মারধর করবে ক্লাবের সদস্যরা সেটা ভাবতে পারেননি গৃহকর্তা। তবে এই ঘটনার আগেও যখন ওই গৃহকর্তা ক্লাবের পাশেই বাড়ি কিনতে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তখনও টাকা দাবি করা হয়েছিল। চাপ দিয়ে টাকা নেওয়াও হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এবার গৃহকর্তার অভিযোগ, ওই এলাকায় বাড়ি কেনা সময়ও ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে বিবাদ হয়েছিল। এদিন দুর্গাপুজোর চাঁদা বাবদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। ওই মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে অস্বীকার করেন গৃহকর্তা দীপেন্দু আচার্য। দু’বছর আগে ক্লাবের পাশে বাড়ি কেনার পর সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ বাধে। তখন টাকা দেওয়া হয়েছিল। এবার ক্লাবের নতুন কমিটির দুই কর্তা আবার ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।
এখানেই শেষ নয়, ওই টাকা দিতে অস্বীকার করলে বাড়িতে ঢুকে মারধর করা হয়। আর মহিলাদের শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ গৃহকর্তা দীপেন্দুর। এই অভিযোগ উঠেছে বাবলি ভদ্র এবং গোবিন্দ দাস নামে দু’জন ক্লাব কর্তার বিরুদ্ধে। তাঁরা বাড়ি গিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। সামনে দুর্গাপুজো এবং সংসার চালাতে হবে। তাই এত টাকা তাঁর পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। এভাবে চাঁদা দিতে অস্বীকার করার জেকে তাঁকে মারধর করা হয়। তাঁকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন স্ত্রী এবং শাশুড়ি। তাঁদের শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকী মহিলাদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করা হয় বলেও দাবি দীপেন্দু আচার্যের।
তাছাড়া অভিযোগের পাল্টা অভিযোগও সামনে এসেছে। বাবলি ভদ্রের পাল্টা অভিযোগ, চাঁদা চাইতে গেলেই দীপেন্দু আচার্য গালিগালাজ করেন। সেটা নিয়ে বচসা হলেও মারধর এবং মহিলাদের শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেনি। ৫০ হাজার টাকাও চাওয়া হয়নি। তবে পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় একটি জেনারেল ডায়েরি দায়ের করা হয়েছে।