স্বাস্থ্যভবনের সঙ্গে বৈঠকের পর অবস্থান প্রত্যাহার আশাকর্মীদের, তবে কর্মবিরতি চলবে

মাসিক ভাতা বাড়ানো-সহ একাধিক দাবিতে স্বাস্থ্যভবন অভিযানের ডাক দেন আশাকর্মীরা। স্বাস্থ্যভবন অভিযানে বাধা পেয়ে শেষমেষ কলকাতা পুরসভার সামনে এবং একাধিক জায়গায় অবস্থানে বসেছিলেন তাঁরা। অবশেষে বিকেলে কলকাতা পুরসভার সামনে থেকে অবস্থান প্রত্যাহার করে নেন তাঁরা। যদিও স্বাস্থ্যভবন চত্বরে অবস্থান চলছে বলেই জানা গিয়েছে। পাশাপাশি কর্মবিরতি চলবে বলেই জানিয়েছেন আশাকর্মীরা। সেই সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে পালিত হবে ধিক্কার দিবস।

আশাকর্মীদের ৫ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা। তাঁদের ৮ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেই খবর। এরপর পৌনে ছ’টা নাগাদ কলকাতা পুরসভার সামনের অবস্থান তুলে নেন আশাকর্মীরা। তাঁরা জানান, ‘স্বাস্থ্যসচিব দেখা করবেন বলে সমস্ত জেলা থেকে আশাকর্মীরা এসেছিলাম। পুলিশ সর্বত্র আটকে দেয়। আমরা আজ অবস্থান তুলছি। তবে আন্দোলন চলবে। বৃহস্পতিবার ধিক্কার দিবস পালন করব।‘

সকালে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত মিছিল শুরু হলে পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে বাধা দেয়। তা নিয়ে দুপুর থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শিয়ালদহ ও ধর্মতলার চত্বর। মিছিলে যোগ দিতে আসেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিলে রাজনৈতিক রং লাগতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।


আশাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে বাঁধে মহিলা কনস্টেবলদের। কয়েকজনকে সেখান থেকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ন্যায্য পাওনা চাইতে আসায় তাঁদের উপর এভাবে পুলিশ অত্যাচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে, সল্টলেকের দিকে আসা একটি মিছিলকে পুলিশ আটকাতে গেলে সেখানে পৌঁছে যান বিজেপি মহিলা মোর্চার ইনচার্জ লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে দেখেই বিক্ষোভকারীরা ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন। নিজেদের মিছিলে কোনও রাজনীতির রং লাগতে দেবেন না বলে জানিয়ে দেন আশাকর্মীরা।

বুধবার কলকাতায় আশাকর্মীদের পাশাপাশি ছিল আইএসএফের প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচি। একটি সল্টলেকের স্বাস্থ্যভবনে অন্যটি শহিদ মিনারে। তার জেরেই বুধবার শহরে তীব্র যানজট তৈরি হয়। সেক্টর ফাইভ, ইএম বাইপাসে থমকে যায় বাস চলাচল, নিত্যযাত্রীদের যান। কলকাতার এজেসি বোস রোড, এসএন ব্যানার্জি রোডের পাশাপাশি হাওড়া, শিয়ালদহ স্টেশনেও ছিল আশাকর্মীদের ভিড়। তার জেরে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে নিত্যযাত্রীদের।

শিয়ালদহ এবং হাওড়া স্টেশনের নিত্যযাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, এই দুই স্টেশনে ছিল ভিড়, বিশৃঙ্খলা। ট্রেন থেকে নেমে বাস বা প্রয়োজনীয় যান ধরতে সমস্যায় পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা। দুই স্টেশন সংলগ্ন রাস্তাতেও ছিল ভিড়।  স্বাস্থ্য ভবনের বাইরে ছিল ব্যারিকেড। সেই ব্যারিকেড টপকে যাওয়ার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি। সে কারণে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে দেখা দেয় তীব্র যানজট।

মিছিল কোনওক্রমে স্বাস্থ্যভবন চত্বরে পৌঁছতেই ফের পুলিশি বাধার সম্মুখীন হন আশাকর্মীরা। এরপরই তাঁরা কলকাতা পুরসভার সামনে, স্বাস্থ্যভবন চত্বর-সহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানে বসেন তাঁরা। অবশেষে অবস্থান প্রত্যাহর করে নেন আশাকর্মীরা। তবে স্বাস্থ্যভবনের সামনে অবস্থান চলবে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে পালিত হবে ধিক্কার দিবস।