বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পরই ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে কালীঘাট তৃণমূল অপরদিকে ঋতব্রত গোষ্ঠীর তৃণমূল গড়ে ওঠে। একে অপরকে আক্রমণও করতে থাকেন। সাংসদদের একটা বড় অংশও পৃথক দলে যোগ দেন। তার মধ্যে প্রতীক-তহবিলের দখল রাখতে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছে গিয়েছিল দু’পক্ষই। সেসব এখন নির্বাচন কমিশনের অধীন। এই আবহে একের পর এক পুরসভা ভেঙে যাচ্ছে। এবার আসানসোল পুরসভার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠল। তার জেরে রাজ্য প্রশাসনের রোষানলে পড়েছে এই পুরসভার মেয়র। আর তারপরই সোজা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে হাজির হলেন তিনি। যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিকে এখন আসানসোল পুরসভায় অচলাবস্থা শুরু হয়েছে। এখানে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সম্পত্তি কর মকুবের অভিযোগের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কোনও বোর্ড মিটিং হয়নি। তার জেরে খোদ পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি কড়া শোকজ নোটিশ ধরিয়েছেন আসানসোলের মেয়র বিধান উপাধ্যায়কে। ওই শোকজের চিঠি হাতে পেয়েই তড়িঘড়ি কলকাতায় হাজির হন মেয়র। আর কলকাতায় পৌঁছে তাঁর গন্তব্য কালীঘাটের পরিবর্তে হয়েছে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে। এই নিয়ে এখন রাজ্য-রাজনীতিতে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। কারণ অবিভক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেই নির্বাচিত হয়ে মেয়র পদে আসীন হয়েছিলেন বিধান উপাধ্যায়। তাহলে এখন দ্বিতীয় গোষ্ঠীর কাছে কেন? উঠছে প্রশ্ন।
অন্যদিকে বিদ্রোহ গোষ্ঠীর কাছে যাওয়ায় কালীঘাট তৃণমূল তাঁকে কোনও সাহায্য করবে না। এই বিধান উপাধ্যায় ওই শোকজের চিঠি থাকা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আর এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গিয়েছেন আসানসোল পুরসভার মেয়র। তাতে কতটা লাভ হবে সেটা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও বিধানবাবুর ভরসা ঋতব্রতই। তাই চর্চাও উঠেছে তুঙ্গে। কালীঘাট তৃণমূলের কাছে কেন গেলেন না তিনি? সেই প্রশ্নও উঠছে। ৬ পাতার দীর্ঘ চিঠিতে রাজ্য সরকারের যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেয়র বিধান উপাধ্যায়। উলটে তিনি আসানসোল পুরসভার পুর কমিশনারের অসহযোগিতাকেই দায়ী করেছেন।
তাছাড়া গোটা পরিস্থিতি নিয়ে মেয়র বিধান উপাধ্যায়ের দাবি, পুর কমিশনারের অসহযোগিতার জেরেই আসানসোল পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়েছে এবং এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের দুই অনুগামীকে সঙ্গে নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে হঠাৎ সাক্ষাৎ করলেন মেয়র। ইতিমধ্যেই আসানসোল পুরবোর্ডের ৬ জন কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছেন। সুতরাং পুরবোর্ডে স্পষ্ট ভাঙন এবং অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই বিষয়ে বিধান উপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা, ‘বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই দেখা করলাম।’