তিন দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পশ্চিমবঙ্গে পা রেখেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে পর্যালোচনা করেন। বঙ্গ সফর শেষ করে রবিবার অর্থাৎ আজই দিল্লি ফিরে যাবেন শাহ। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিল্লি ফিরে যাওয়ার পর রবিবার সন্ধ্যাতেই রাজ্য বিজেপির কোর কমিটির বৈঠক হবে। এই বৈঠক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাড়িতে হবে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।
কে কে উপস্থিত থাকবেন সেই বৈঠকে জানা গিয়েছে, সেই বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, লকেট চট্টোপাধ্যায়, সৌমিত্র খাঁ, শশী অগ্নিহোত্রী, জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো ও বাপি গোস্বামী উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন দুজন সংগঠন সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী ও সতীশ ধোন্ড। তাঁদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের বৈঠকে থাকতে পারেন রাজনীতিক ও সহকারী পর্যবেক্ষক মঙ্গল পাণ্ডে ও অমিত মালবীয় এবং সাংগঠনিক পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল।
আজ বঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তিনটি কর্মসূচি রয়েছে। সকালে শাহ আলিপুরের সরকারি ভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। এরপর দুপুরে সেখান থেকে চলে যাবেন জাতীয় গ্রন্থাগারে। সেই গ্রস্থাগার থেকে নতুন একটি সংগ্রহশালার তিনি উদ্বোধন করবেন। সেখান থেকে তিনি সোজা পৌঁছে যাবেন বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে। ওখান থেকে শাহ একটি দুগ্ধ সংস্থার কারখানার ভার্চুয়াল শিলান্যাস করবেন। সব কর্মসূচি শেষ করে রবিবার তিনি দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে বিশেষ বিমানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাগডোগরায় পৌঁছান। সেদিন রাতে শিলিগুড়ির কদমতলায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দপ্তরে থাকেন। শনিবার রাজগঞ্জ ব্লকের জুম্মা গছ সীমান্ত পরিদর্শন করেন অমিত শাহ। সীমান্তে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং মহানন্দা নদীর উন্মুক্ত পথে অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন তিনি৷ সীমান্ত এলাকায় নিজে বৃক্ষরোপন করেন শাহ। বিএসএফ অফিসার এবং কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়ে ওঠার পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে সীমান্ত নিরাপত্তায় সবচেয়ে গুরুত্ব দেন অমিত শাহ। শিলিগুড়িতে বিএসএফের ‘প্রহরী সম্মেলনে’ যোগ দিয়ে উত্তরবঙ্গে বিশেষ করে চিকেনস নেকের নিরাপত্তা নিয়ে ম্যারাথন বৈঠকও করেন। উত্তরকন্যার পাশে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখেন শাহ। কাঁটাতার লাগোয়া জামুড়িয়া ভিটা, সন্ন্যাসীকাঁটা এলাকাও পরিদর্শন করেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর পাশাপাশি শাহ উত্তরবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় ত্রিস্তরীয় ফেন্সিং নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।