নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গসহ ভোটমুখী চার রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির জন্য পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। বিশেষত, পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই নিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কমিশন কেবল পশ্চিমবঙ্গেই প্রতিটি বিধানসভার জন্য একজন সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে, যার সংখ্যা ২৯৪। এর পাশাপাশি, পুলিশ পর্যবেক্ষকদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
সাধারণত, পুলিশ জেলা বা কমিশনারেট প্রতি একজন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয় কিন্তু এবার সেই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি, মোট ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। বিহার, তেলেঙ্গানা, দিল্লি, পাঞ্জাব-সহ দেশের একাধিক রাজ্য থেকে এই সমস্ত পর্যবেক্ষককে রাজ্যে নিয়োগ করা হচ্ছে।
এছাড়াও, নির্বাচনী আয়-ব্যয়ের বিষয়ে পর্যবেক্ষণের জন্য ১০০ জন পর্যবেক্ষক রাজ্যে দায়িত্ব পালন করবেন। এসব পর্যবেক্ষক নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কিনা, তা নিশ্চিত করতে নজরদারি করবেন। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৮ মার্চের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিধানসভায় পৌঁছনোর পর পর্যবেক্ষকরা তাদের যোগাযোগের ঠিকানা প্রকাশ্যে রাখবেন, যাতে জনসাধারণ প্রয়োজনে তাদের সাহায্য পেতে পারে।
এছাড়া, নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে, প্রতি দিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রার্থী এবং রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য পর্যবেক্ষকদের সময় রাখতে হবে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল, নির্বাচন যেন অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং পক্ষপাতহীন হয়, তা নিশ্চিত করা।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন আরও তিনটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির জন্য পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। আসামে ১২৬টি বিধানসভার জন্য ৫১ জন সাধারণ এবং ৩৫ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।
কেরলে ১৪০টি বিধানসভার জন্য ৫১ জন সাধারণ এবং ১৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক, তামিলনাড়ুতে ২৩৪টি বিধানসভার জন্য ১৩৬ জন সাধারণ এবং ৪০ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। পুদুচেরির ৩০টি বিধানসভার জন্য ৮ জন সাধারণ এবং ৮ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।
এবার দু’দফায় বাংলায় নির্বাচন হতে চলেছে। প্রথম দফার ভোট রয়েছে আগামী ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গেই আগামী ৪ এপ্রিল ভোটের ফলাফল ঘোষণা। এবারের বঙ্গ ভোট শান্তিপূর্ণ করানোটা কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনে স্বচ্ছতা এবং সুষ্ঠুতা বজায় রাখতে চাইছে কমিশন, যাতে জনগণের আস্থা অটুট থাকে।