এক সময় যে দলীয় কার্যালয় থেকেই বীরভূমের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠত, সেই অনুব্রত মণ্ডলের তৃণমূল কার্যালয়েই এবার তালা ঝুলল। অভিযোগ, বিজেপি নেতা-কর্মীরাই অনুব্রতর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছে। মঙ্গলবার বোলপুর পুরসভায় বিক্ষোভ দেখানোর পর আচমকাই দলীয় কর্মীদের নিয়ে তৃণমূল কার্যালয়ে চড়াও হন বিজেপি নেতারা। ভিতরে থাকা তৃণমূল কর্মীদের বের করে দিয়ে তৃণমূল কার্যালয়ের দু’টি গেটেই তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, তালার চাবি নিয়ে চলে যান স্থানীয় বিজেপি নেতা অরুণ দাস। ঘটনাস্থল থেকে বোলপুর থানার দূরত্ব অতি সামান্য হলেও গোটা ঘটনায় পুলিশকে কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সময় অনুব্রত মণ্ডল নিজের বোলপুরের নিচুপট্টির বাড়িতেই ছিলেন। একসময় এই কার্যালয় থেকেই বীরভূম জেলার সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, এখান থেকেই প্রশাসনিক নানা সিদ্ধান্তে প্রভাব খাটানো হত। কোন থানায় কে ওসি হবেন, কোন ঠিকাদার কোন টেন্ডার পাবেন-এসব এই কার্যালয় থেকেই চূড়ান্ত হত। স্বাভাবিকভাবেই এই কার্যালয়কে ঘিরে বিতর্ক ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী।
পুর পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে এ দিন পুরসভায় যান বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। সেই সময় পুরসভার বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির নেতা-কর্মীরা। পরে সেখান থেকেই মিছিল করে তাঁরা তৃণমূল কার্যালয়ে পৌঁছে তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অরুণ দাসের দাবি, ‘বোলপুর পুরসভা এখনও অনুব্রত মণ্ডলের কার্যালয়ের নির্দেশেই চলছে বলে জানতে পেরেছি। তাই কেষ্ট-চন্দ্রনাথের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যালয় থেকেই মানুষের সঙ্গে চরম অন্যায় হয়েছে। সাধারণ মানুষকে বঞ্চনা করা হয়েছে।’
অন্যদিকে, বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নেব। অতীতে তৃণমূলের ওই কার্যালয় থেকেই অনেক অত্যাচার হয়েছে। তবে বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ একই সঙ্গে শ্যামাপদ পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, তৃণমূল কি কখনও অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে তালা দেয়নি? তবে এ বিষয়ে অনুব্রত মণ্ডল বা তৃণমূলের কেউই মুখ খোলেননি।
সম্প্রতি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, কোথাও তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় দখল করা যাবে না। সেই নির্দেশের পরেও বোলপুরে এই পদক্ষেপ কী কার্যত দল-বিরোধী সে প্রশ্নও উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।