বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল। এই টুলু মণ্ডল আবার অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে জানা গিয়েছে। আর টুলু মণ্ডলের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো কোটি কোটি টাকা। মাঝরাতে হানা দিয়ে পুলিশ এই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করেছে। আর সকাল হতেই তল্লাশি অভিযানের পর হাঁফিয়ে ওঠে পুলিশকর্মীরা। ওই বাড়ি থেকে থরে থরে সাজানো নোটের বাণ্ডিল উদ্ধার করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন পুলিশকর্মীরা বলে সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিতে টাকার পরিমাণ জানতে এখনও পর্যন্ত পাঁচটি নোট গোনার যন্ত্র আনা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য দুটি বড় ট্রাঙ্ক নিয়ে আসা হয়েছে।
এই দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখ কপালে উঠেছে। অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের নাম মিনার মণ্ডল। তাঁর বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। প্রথমেই গোটা বাড়ি ঘিরে ফেলা হয়। তারপর শুরু হয় জোর তল্লাশি অভিযান। ওই বাড়িতে হাজির হয় পুলিশের বড় দল। ওই বাড়ি থেকে শুধু টাকাই নয়, বিপুল পরিমাণ সোনাও উদ্ধার করা হয়েছে। আনুমানিক ৮ থেকে ১০ কেজি সোনা এবং ৩০ থেকে ৩২ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে পুলিশ এখনও পর্যন্ত টাকার অঙ্ক কিছু জানায়নি। এখন অনুব্রত মণ্ডল অবশ্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তাই তাঁকে নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে।
এই টুলু মণ্ডল বেআইনি পাথর খাদান চালাতেন বলে অভিযোগ। আর টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডল পেশায় একজন সরকারি বাসের চালক। আবার পাথর ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। টুলুর একাধিক খাদানের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন এই মিনার। তবে এত টাকা কোথা থেকে এল? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কোনও বেআইনি পথেই এই আয় হয়েছে বলে পুলিশের অনুমান। এই তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে এলাকায়। গরু পাচার মামলায় নাম জড়িয়েছিল টুলু মণ্ডলের। ২০২২ সালে ইডির নজরে ছিলেন টুলু। তখন তাঁর বাড়ি এবং অফিসে হানা দিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার টুলুর আত্মীয়ের বাড়িতে হানা দিল পুলিশ।
তাছাড়া তিনদিন আগে এনআইএ অভিযানে বিপুল পরিমাণে বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছিল বীরভূমের নলহাটিতে। আবার উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, জিলেটিন স্টিক। পুলিশ সূত্রে খবর, মোট ৮০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, ১২,৪০০টি জিলেটিন স্টিক উদ্ধার করা হয়েছে। ১০৫টি ডেটোনেটর এবং ৩৬টি ডেটোনেটিং ফিউজের কয়েল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিস্ফোরক ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। এই গোটা বিষয় নিয়ে সাঁইথিয়ার বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা বলেন, ‘রাজ্যে পরিবর্তন হয়েছে। চোর, ডাকাত, সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ হচ্ছে।’