বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনে আরও এক অভিযুক্ত গ্রেপ্তার। এই ঘটনায় গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) চতুর্থ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে বলে বুধবার পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের নাম কবীর মোল্লা। গত রবিবার বারুইপুরের সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই কবীর মোল্লা পলাতক ছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গণপিটুনিতে নিহত হন এক ব্যক্তি।
বুধবার ভোরে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে তল্লাশি চালিয়ে কবীর মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার আদালতে তোলা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাঁকে হেফাজতের আর্জি জানাতে পারে বলবে জানা গিয়েছে।
এই গ্রেপ্তার ফলে মামলায় মোট গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল বুধবার ভোরে এনকাউন্টারে মারা গিয়েছেন। পুলিশের দাবি, মঙ্গলবার রাতে পুনর্নির্মাণের জন্য পুলিশ প্রভাস মণ্ডলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পালানোর সময় পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে।
অন্য দুই অভিযুক্ত দিবাকর সর্দার এবং আনন্দ সর্দার বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা জেলায় তীব্র জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবারর্ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরে গিয়ে জেলা পুলিশ সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
তিনি জানান, এই মামলায় রাজ্য সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও, নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর বিক্ষোভ চলাকালীন যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তারও পৃথক তদন্ত চলছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।