আগামীকাল থেকে দেওয়া হবে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম

কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী

কল্যাণীতে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক বৈঠক করেন। বৈঠক থেকে তিনি ঘোষণা করেন স্কুল, কলেজ এবং মন্দিরের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনও মদের দোকান চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। এদিন নদিয়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনা এই তিনি জেলার জনপ্রতিনিধি এবং শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

সেই বৈঠক থেকে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থানগুলিকে মদের প্রভাব থেকে দূরে রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে স্কুল-কলেজ এবং মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ স্কুল, কলেজ ও মন্দিরের এক কিলোমিটারে মধ্যে মদের দোকান চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। এর ফলে তরুণ প্রজন্ম মদের প্রলোভনে প্রভাবিত হবে না এবং রাজ্য আরও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ গড়ে উঠবে।‘ এর পাশাপাশি এই বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন ২৭ মে অর্থাৎ আগামীকাল থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র দেওয়া হবে।


পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল এই অন্নপূর্ণা যোজনা। ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে উদ্যোগী হয়েছে শুভেন্দুর সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা আর্থিক সহয়তা দেওয়া হবে। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা ঢুকে যাবে বলে খবর। আবেদনপত্র বিতরণ এবং যাচাইয়ের কাজ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। অনলাইন এবং অফলাইনে পূরণ করা যাবে ফর্ম।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল মহিলাদের আর্থিক সহয়তা দেওয়া, বিশে, করে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলির আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। তিনি আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার পর যাতে দ্রুত এবং সুষ্ঠভাবে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

এদিন বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকার ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের উপর বিশেষ জোর দেন। সরকারের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকার সম্পর্কে আধিকারিকদের অবহিত করতেও নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দুর্গাপুরে, বাঁকুড়া, পূর্বি বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমান নিয়ে বৈঠক করেছি। মঙ্গলবার নদিয়ায়, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি নিয়ে আলোচনা করছি। মালদহে মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরকে নিয়ে একই ধরনের বৈঠক হবে। কোলাঘাটে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও হাওড়াকে নিয়ে আরেকটি বৈঠক হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য নির্বাচিত বিধায়ক ও প্রশাসনের মদ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা। নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছে, যেখানে শাসকের শাসন নয়, আইনের শাসন চলবে।‘

জনপ্রতিনিধি ও আমলাদের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি দূর করা এবং নীতিগত সিদ্ধান্তগুলি যাতে তৃণমূল স্তরে দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জনসাধারণের সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়াতে মন্ত্রী, বিধায়ক ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে ঘনিষ্ট সমন্বয় প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা বারাসতে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। এছাড়াও ছিলেন দেগঙ্গার তৃণমূল বিধায়ক আনিসুর রহমান বিদেশ এবং স্বরূপনগরের তৃণমূল বিধায়ক বীণা মণ্ডল।