পাহাড়ে পা রেখেই মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিয়েছিলেন, ১ জুলাই থেকে জি রামজি প্রকল্পের কাজ, কালিম্পংয়ে মেডিক্যাল কলেজ, পুলিশে দ্রুত নিয়োগ হবে। একইসঙ্গে গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) দুর্নীতি নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জিটিএ ফাইল খোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। আর তারপরই বুধবার জিটিএ চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অনীত থাপা। এই খবর চাউর হতেই আলোড়ন পড়ে গিয়েছে পাহাড়ে।
জিটিএ ফাইল খোলা হবে বলায় অনীত থাপা ভয় পেয়েছেন বলে অনেকে মনে করছেন। সত্যিই কি ভয় পেয়েছেন অনীত থাপা? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে জিটিএ তদন্তের দাবিকে স্বাগত জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন তিনি। অনীত থাপার সঙ্গে আগের সরকারের সম্পর্ক ভাল ছিল। সেখানে এখন সরকার বদলে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কার্শিয়াংয়ের জনসভা থেকে স্পষ্টভাষায় বলেছিলেন, ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা। সমস্ত দুর্নীতির তদন্ত হবে। জিটিএ ফাইল খোলা হবে। কাউকে ছাড়া হবে না। সব নিয়োগ হবে স্বচ্ছতার সঙ্গে। আগের মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র পর্যটক হিসাবে পাহাড়ে ঘুরে যেতেন। কিন্তু আমি এখানে পর্যটক হিসাবে আসিনি। কাজ করতে এসেছি। পাহাড়ের জনজাতি সম্প্রদায়ের জন্য রেশনে বিশেষ ভর্তুকি এবং বিদ্যুতে ভর্তুকি মিলবে। পাহাড়ের মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সরকারের সব প্রকল্পকে পাহাড়বাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। যা বলব, তাই করব— এটাই আমার অঙ্গীকার।’
এদিকে এই আকস্মিক পদত্যাগের ঘটনায় পাহাড়ের রাজনীতিতে যেন ভূমিকম্প হয়ে গেল। পাহাড়ের তিনটি আসনে পরাজয়ের দায় স্বীকার করে জিটিএ-র চিফ এক্সিকিউটিভ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অনীত থাপা। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের দায় স্বীকার করে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং সমাজমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছিল এবং দলের ভিতরেও কিছু টানাপোড়েন দেখা গিয়েছিল।
অন্যদিকে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পদত্যাগ করলেন অনীত থাপা। এমনকী জিটিএ সভাসদ পদও ছেড়ে দিয়েছেন। তারপর সমাজমাধ্যমে অনীত থাপা লেখেন, ‘রাজ্যে পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এই সরকারকে মেনে নিয়েছে। জিটিএ নিয়ে পাহাড়ের মানুষের ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। সবাই চাইছে জিটিএ তদন্ত করা হোক। আমিও চাইছি তদন্ত হোক। কিন্তু জিটিএতে বেশি টাকা আসত না।’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন এসেছিলেন তখন বিমল গুরুং সেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এমনকী মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁকে আলিঙ্গন করতে দেখা গিয়েছিল। তাই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, বিমল গুরুং কি এবার নতুন করে জিটিএ-র চেয়ারম্যান হবেন? ইস্তফা দেওয়ার পর অনীত থাপা জানিয়েছেন, ‘জিটিএ থাকা সত্ত্বেও পাহাড়ের মানুষের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হচ্ছিল না। বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের মানুষ যেভাবে বিজেপিকে বিপুল জনাদেশ দিয়েছে, তাতেই স্পষ্ট যে তারা পাহাড় সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী এবং রাজনৈতিক সমাধান চায়।’