ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা এসআইআর ঘিরে রবিবার তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায়। শিমুলতলা এলাকার ৬৯ নম্বর বুথে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৯০০। অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে ৪৭৫ জনকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের তথ্য কী ভাবে ভুল হতে পারে, তা নিয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, ভোটার তালিকার জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও গণনাপত্র সঠিক ভাবেই জমা দেওয়া হয়েছিল। তার পরেও একের পর এক কারণ দেখিয়ে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এর ফলে কাজকর্ম ছেড়ে দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রবিবার সকাল থেকে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ভোটাররা রাস্তা অবরোধ করেন। টায়ার জ্বালিয়ে স্লোগান ওঠে, ‘এসআইআর মানি না’।
ইফাজ মণ্ডল নামে এক বাসিন্দা জানান, তাঁর পরিচিত প্রায় প্রত্যেকেই শুনানির নোটিস পেয়েছেন। কাজ ছেড়ে শুনানিতে গিয়েও অনেককে আবার ফেরত দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কাজকর্ম বাদ দিয়ে মানুষ শুনানিতে যাচ্ছেন। কিন্তু কাগজপত্র সব ফেরত দিয়ে বলা হচ্ছে আবার যেতে হবে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ কত বার যাবে? একদিন কাজ না করলে আমাদের সংসার চলে না। আর নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃত ভাবে খেটে খাওয়া মানুষদের হয়রানি করছে। আমরা আর এসআইআর মানি না।
প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলার ফলে এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। খবর পেয়ে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে। পুলিশের আশ্বাসের পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। পরে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ ও আতঙ্ক এখনও কাটেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা, কারণ জীবিকা ও ভোটাধিকার দু’টিই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। অযথা হয়রানি কোনওভাবেই মেনে নিতে নারাজ এলাকাবাসী। এই মুহূর্তে প্রশাসনের ইতিবাচক পদক্ষেপের অপেক্ষায় সবাই।