অমিত শাহের দুইদিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে জনসাধারণের সঙ্গে সংযুক্তি, দলীয় পর্যালোচনা সভা

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের দুইদিনের সফরে কলকাতায় পৌঁছেছেন। এই সফরে তিনি মূলত দলীয় কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং জনসংযোগ কর্মসূচিতে মনোনিবেশ করবেন। গত মাসের তুলনায় এবারের সফরে অমিত শাহর প্রধান মনোযোগ থাকবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্তি স্থাপন ও জনসভা আয়োজনের দিকে।

পক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি রাজ্যের বিজেপির মূল কমিটি সদস্যদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করবেন। বৈঠকে ভোট পূর্ব প্রস্তুতি, নির্বাচনী কৌশল এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা হবে।

শনিবার সকালেই উত্তর ২৪ পরগনার বরাকপুরে প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চারটি সাংগঠনিক এলাকা বা লোকসভা আসনের—বঙ্গন, বারাসাত, বাসিরহাট ও বরাকপুর—বিজেপি কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। দুপুরে উত্তরবঙ্গের সিলিগুড়িতে দ্বিতীয় জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সিলিগুড়ি, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কুচবিহার এলাকার দলীয় কর্মীরা অংশগ্রহণ করবেন। সিলিগুড়ির সভা শেষে অমিত শাহ বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে দিল্লি ফিরে যাবেন।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পরপর দুটি রাজ্য সফর, বিজেপির নবনিযুক্ত সভাপতি নিতিন নাবিনের সফর এবং অমিত শাহের এই সফর প্রমাণ করছে, এইবারের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে রাজ্য কমিটির একজন নেতা বলেন, “এই সফরে অমিত শাহ মূলত সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন ও দলীয় কার্যক্রমের সমন্বয় করাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি চাইছেন ভোটারদের কাছে দলীয় পরিকল্পনা পৌঁছুক এবং নির্বাচনের আগে দলের প্রস্তুতি দৃঢ় হোক।”

পূর্বে এই মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদী ১৭ জানুয়ারি মালদা জেলা ও ১৮ জানুয়ারি হুগলি জেলার সিঙ্গুরে জনসভা করেছেন। এরপর ২৭ জানুয়ারি থেকে নিতিন নাবিন পশ্চিমবঙ্গে দুদিনের সফরে দুরুগপুরে জনসভা করেছেন।

বিজেপি সূত্রের মতে, এই সফরগুলি শুধুমাত্র ভোট প্রার্থনা নয়, বরং রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সাংগঠনিক শক্তি দৃঢ়করণ এবং জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।