ভোটের সকালে শুভেন্দুকে ফোন অমিত শাহের

বুধবার সকাল ৭টা থেকে রাজ্যের ১৪২টি কেন্দ্রে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ পর্ব। সকাল হতেই বিভিন্ন বুথে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় এবং একইসঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়তে থাকে। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী এদিন সকাল থেকেই একাধিক বুথ পরিদর্শন করেন এবং ভোট প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি বিষয় খতিয়ে দেখেন। সূত্রের খবর, ভোট শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং নির্বাচনী পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন। বিশেষ করে ফলতা বিধানসভার পরিস্থিতি নিয়ে আলাদা করে আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে।

এদিকে দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। উত্তরপ্রদেশের এই অভিজ্ঞ অফিসার, যিনি ‘সিংঘম’ নামে পরিচিত, সকাল থেকেই তাঁর কনভয় নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় টহল দেন। সঙ্গে ছিল সাঁজোয়া যান এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন ভোট নিশ্চিত করা। তবে সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর আসতে শুরু করে।

ফলতা বিধানসভা এলাকায় সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা অভিযোগ করেন, দেবীপুরের ১৭৭ নম্বর বুথে ইভিএমে বিজেপির প্রতীকের উপর টেপ সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মোট পাঁচটি বুথে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কোথাও কোথাও লাঠিচার্জের ঘটনাও ঘটে বলে খবর।


এই অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে আরও বড় আকার নেয়, কারণ ফলতা কাণ্ডের জল পৌঁছে যায় দিল্লি পর্যন্ত। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টি নিয়ে সরাসরি নজর রাখছে এবং তিনি জানান যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

এর পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও শুরু হয়েছে তীব্র টানাপোড়েন। অতীত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি এবার বাংলায় বড় সাফল্যের লক্ষ্য নিয়েছে এবং শীর্ষ নেতৃত্ব একাধিকবার রাজ্যে এসে প্রচার চালিয়েছে। ফলে এবারের ভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও কেন্দ্র-রাজ্য নজরদারি—উভয়ই তুঙ্গে পৌঁছেছে।