শনিবার কলকাতার একটি বিলাসবহুল বেসরকারি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে ‘জনগণের চার্জশিট’ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিনের শাসনে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এই চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে।
চার্জশিট প্রকাশ করে অমিত শাহ বলেন, আসন্ন নির্বাচন শুধু পশ্চিমবঙ্গের নয়, দেশের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি, হিংসা এবং তোষণনীতির মাধ্যমে রাজ্যে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। শিল্পোন্নয়ন থমকে গিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এই নির্বাচন ভয়মুক্তির, কর্মসংস্থানের এবং মহিলাদের নিরাপত্তার নির্বাচন।’ বিজেপির বাড়তে থাকা জনসমর্থনের কথাও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, আগামী নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে তাঁর দল। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন অমিত শাহ। সন্দেশখালি থেকে পার্ক স্ট্রিট— বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে তিনি মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি রেশন ব্যবস্থা, শিক্ষক নিয়োগ এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একাধিক ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগও করেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভিক্টিম কার্ড’ দেখিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের উপর আক্রমণ বাংলার সংস্কৃতির পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করা এবং অনুপ্রবেশ রুখতে ক্ষমতায় এলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ারও আশ্বাস দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তবে এই সমস্ত অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের মতে, বাংলায় উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং সম্প্রীতির পরিবেশই বাস্তব চিত্র। গ্রাম থেকে শহর—পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় একাধিক প্রকল্প মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তৃণমূলের বক্তব্য, বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সামনে এনে রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে খারাপভাবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসন সর্বদা সক্রিয় এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শেষ পর্যন্ত এই রাজনৈতিক লড়াইয়ে মানুষের রায়ই চূড়ান্ত। উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার উপর ভরসা রেখেই বাংলার মানুষ সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল নেতৃত্ব।