প্রথম দফার ভোটে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আবারও প্রমাণ করল, কেন এই কেন্দ্র রাজ্য রাজনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর ও চর্চিত কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শান্তিপূর্ণ ভাবেই শুরু হয় ভোটগ্রহণ। বিভিন্ন বুথে সকাল থেকেই লম্বা লাইন চোখে পড়ে, বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। অনেকেই জানিয়েছেন, আগের নির্বাচনের তুলনায় এবারে পরিবেশ অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।
এই কেন্দ্রের লড়াই এবারে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিজেপির প্রার্থী তথা বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মুখোমুখি তৃণমূলের পবিত্র কর—যিনি একসময় শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক সমীকরণের সেই পরিবর্তনই এবারের লড়াইকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম এখনও স্মৃতিতে টাটকা, যখন হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জয়ী হন শুভেন্দু অধিকারী। ফলে এবারের নির্বাচন ঘিরেও স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে।
ভোটের দিন শুভেন্দু অধিকারী সকালেই ভোট দেন এবং নিজের জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় সন্তোষও প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে পবিত্র করও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী, দাবি করেন মানুষ তাঁর পক্ষেই রায় দেবেন। তাঁর দাবি তিনি ৩০হাজার ভোটে জয়ী হবেন।
তবে দিনের শেষে ফের উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। অভিযোগ, জেলেমারার ৩৭ নম্বর বুথের কাছে ভেকুটিয়া ১ অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি রাখহরি ঘড়াকে বেধড়ক মারধর করে বিজেপি কর্মীরা। রাখহরির দাবি, ভোট দিতে যাওয়ার সময় তাঁকে ঘিরে ধরে আক্রমণ করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হলেও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, রাখহরি ঘড়া নিজেই লাঠি নিয়ে বেরিয়েছিলেন এবং সাধারণ মানুষই তাঁকে বাধা দেয়। এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ বিজেপির।
সারা দিনের নিরিখে ভোটগ্রহণ মোটের উপর শান্তিপূর্ণ হলেও শেষ মুহূর্তের এই ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলেছে নন্দীগ্রামের নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে। প্রশাসনের দাবি, অধিকাংশ বুথেই নির্বিঘ্নে ভোট হয়েছে। এখন সব নজর ফল ঘোষণার দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি।