গণনার দিন বিজেপি কর্মীকে গুলি করার ঘটনায় মদতের অভিযোগ

পরেশরাম দাসের দাদা উত্তম দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়কের পরিবারের এই সদস্যের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীকে খুনের চেষ্টায় মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার গভীর রাতে ক্যানিংয়ের মিঠাখালি এলাকায় তাঁর বাড়ির সামনে থেকে উত্তমকে আটক করে পুলিশ। অভিযানে পুলিশের সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও।

উত্তম দাস ক্যানিং ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং এলাকায় প্রভাবশালী নেতা হিসেবেই পরিচিত। তাঁর গ্রেপ্তারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। রাতেই বহু অনুগামী ক্যানিং থানার সামনে জড়ো হন। অতীতে এই এলাকায় থানা ঘেরাও, ধৃত ছিনতাই কিংবা পুলিশের উপর হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে পুলিশ আগে থেকেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। থানার বাইরে মোতায়েন ছিল অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জমায়েতকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ মে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন। অভিযোগ, ভোট গণনা চলাকালীন ক্যানিংয়ের দিঘিরপাড় গ্রামে বিজেপি কর্মী অর্ঘ্যদীপ বসুকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলি তাঁর ডান পায়ে লাগে। ওই হামলার ঘটনায় উত্তম দাসের যোগ রয়েছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। তদন্তের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার তাঁকে আদালতে তোলা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।


এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বিপুল সাফল্য পেয়েছে। ২০৭টি আসনে জয়লাভ করেছে দলটি, যেখানে তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। তবে ক্যানিং পশ্চিম কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী পরেশ রাম দাস  ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন। ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ সামনে আসছে।