দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই উত্তেজনা ছড়াল কলকাতার বেশ কয়েকটি এলাকায়। দক্ষিণ কলকাতার বেহালায় ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রনগর রামকৃষ্ণ পল্লিতে তৃণমূল নেতা কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ। এই ঘটনায় প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সহ মোট ৫জন জখম হয়েছেন। অভিযোগের তির বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি নিউ আলিপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মারধর ও মহিলাদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এই দুই ঘটনায় বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় ও রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে বেহালা পশ্চিমের রবীন্দ্রনগরের রামকৃষ্ণ পল্লিতে দলের কার্যালয়ে বসেছিলেন কয়েকজন তৃণমূল কর্মী। সেই সময় কয়েকজন দুষ্কৃতী ইট ও বাঁশ দিয়ে তাঁদের উপর হামলা চালায়। তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে। খবর পেয়ে রামকৃষ্ণ পল্লিতে আসেন ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা রাজ্য তৃণমূলের সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জন দাস। অঞ্জনকেও ব্যাপক মারধর করা হয়। তাঁর মাথা ফেটে গিয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পরে ঘটনাস্থলে আসেন বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, ‘বিজেপি পরাজয়ের আতঙ্কে ভুগছে। সেই কারণেই ওরা হামলা চালিয়েছে।’ দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন রত্না। ঘটনার জেরে উত্তেজনা ছড়ানোয় এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও ব়্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতার নিউ আলিপুরেও বেশকিছু তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ ওঠেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, জওয়ানরা মহিলাদের পোশাক ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি ও মারধর করেছে। বিজেপির উস্কানিতেই জওয়ানরা এই কাজ করেছে বলে শাসক দলের অভিযোগ। নিউ আলিপুরের ঘটনায় ৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের টালিগঞ্জের বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, যোধপুর পার্ক উইমেন পলিটেকনিক কলেজের সামনে তৃণমূল কর্মীদের উপর লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে সিআরপিএফ জওয়ানদের বিরুদ্ধে। লাঠির ঘায়ে কয়েকজন জখম হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালে তৃণমূল কর্মীদের দেখতে যান রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার। দেবাশিসের অভিযোগ, ভোটের হার দেখে বিজেপি হতাশ। ওরা ভাবতে পারেনি এসআইআরের প্রতিবাদে মানুষ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ভোট দেবে। সেই হতাশা থেকেই ক্ষমতা দেখাতে বিজেপি কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে তৃণমূল কর্মীদের উপর অত্যাচার চালিয়েছে।