বুধবার সকাল প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনি থানার কর্ণগড় গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামেরই বাসিন্দা গোপাল রাণা, জয়ন্ত ঘোষ, সন্টু ভুঁইয়া, প্রবীর সরকারের নেতৃত্বে একদল গ্রামবাসী আচমকা বিজেপির সক্রিয় কর্মী ওই গ্রামেরই বাসিন্দা তাপস সাউয়ের বাড়িতে হামলা চালায় এবং বাড়ি ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। তাপস বাবু দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত।
২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি হেরে যাওয়ার পর তাঁর বাড়িতে হামলা হয়, তাকেও মারধর করা হয়, তার পরিবারের সদস্যদের উপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ২০২৪ সালের মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হেরে যাওয়ায় দ্বিতীয়বার তাঁর বাড়ির উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে ।
মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শংকর কুমার গুছাইত বিপুল ভোটে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসা সত্ত্বেও বিজেপি কর্মীর বাড়িতে হামলা ও তাঁকে মারধরের ঘটনার অভিযোগে এলাকায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তিনি লিখিতভাবে শালবনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং দলের বিধায়ক থেকে নেতৃত্বদের বিষয়টি জানিয়েছেন। যার ফলে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে শালবনি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বিজেপি কর্মী তাপস সাউ ও তাঁর পরিবারের লোকেরা যথেষ্ট আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে খবর। তিনি আরও বলেন, যাঁরা তাঁর বাড়ির উপর হামলা চালিয়েছে এবং তাঁকে মারধর করেছে তাঁদের মধ্যে দুই একজন ছাড়া প্রায় সকলেই একসময় তৃণমূল কংগ্রেস করতেন এবং সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছে। বর্তমানে তাঁরা নিজের বিজেপির লোক বলে পরিচয় দিচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি দলের নেতৃত্বদের যেমন বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রশাসনকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।