বিজেপির বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা মহুয়ার, সাংসদের পাশে দাঁড়ালেন বিকাশরঞ্জন, অখিলেশ

Mahua Moitra Photo-SNS

সাংবাদিকদের প্রশ্নে মেজাজ হারালেন মমতাপন্থী সাংসদ মহুয়া মৈত্র। শুধু তাই নয়, মেজাজ হারিয়ে বিজেপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করলেন চরম অশালীন ভাষা। ইতিমধ্যেই মহুয়ার সেই কু-কথার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বুধবার নদিয়ার কালীগঞ্জে এই ঘটনা ঘটেছে। মহুয়ার এই ধরনের ভাষা প্রয়োগের তীব্র নিন্দা করেছে প্রায় সব রাজনৈতিক দল।

তবে মহুয়ার উপর হামলার তীব্র নিন্দা করছেন সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। মহুয়ার পাশে দাঁড়িয়ে সিপিএমের এই প্রাক্তন সাংসদ সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘যেভাবে একজন সাংসদ তথা তৃণমূল নেত্রীকে হেনস্থা করা হয়েছে তা সভ্যর গণতান্ত্রিক সমাজের পক্ষে লজ্জার। অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। বিশেষ করে মহুয়ার বিরুদ্ধে তোলাবাজি বা হুমকি দেখানোর কোনও অভিযোগ আছে বলে আমি জানি না। এই অসভ্যতার বিরুদ্ধে সভ্য সমাজের প্রতিটি মানুষের প্রতিবাদ জানানো উচিত।’ মহুয়ার হয়ে মুখ খুলেছেন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ। তিনি এক্স পোস্টে লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে এক বিষাক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করছে গেরুয়া দল। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। তাদের এই হিংসার রাজনীতি দেশবাসীর কাছে লজ্জার। তাদের এই আচরণে মানুষ ক্ষুব্ধ।’ আরও একধাপ এগিয়ে সপা নেতা লেখেন, ‘এ বিষয়ে অবিলম্বে আদালত ও লোকসভার স্পিকারের পদক্ষেপ করা উচিত।’

উল্লেখ্য, বুধবার নদিয়ার কালীগঞ্জে বিধায়ক আলিফা আহমেদের বাড়িতে সংলগ্ন দলীয় অফিসে তৃণমূলের একটি কর্মিসভা ছিল। সেই কর্মিসভায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। অভিযোগ, সে সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় একের পর এক ডিম। শুধু ডিম নয়, মহুয়াকে লক্ষ্য করে আলু, বেগুন, পাথর ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের ছোঁড়া ডিম লাগে মহুয়ার গায়ে। বিক্ষোভের জেরে মহুয়া তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদের বাড়িতে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে পড়েন।


এরপর আলিফার বাড়ি থেকে বেরোতেই সাংবাদিকরা মহুয়াকে ঘিরে ধরেন। সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘দিদি আপনাকে ডিম ছুঁড়ল কেন?’ সাংবাদিকদের এই প্রশ্নে মেজাজ হারান নেত্রী। বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক অত্যন্ত অশালীন ভাষা প্রয়োগ করেন তিনি। এমনকী, বিজেপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও কু-কথা বলতে থাকেন মমতা ঘনিষ্ঠ নেত্রী। তাঁর সেই অশালীন ভাষা রেকর্ড হয়ে যায় সাংবাদিকদের ক্যামেরায়। সেই ভিডিওই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দল ও দলের কর্মী-সমর্থকদের প্রতি মহুয়ার এ ধরনের ভাষার প্রয়োগকে একবাক্যে নিন্দা করেছে রাজনৈতিক মহল।