পশ্চিমবঙ্গকে ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ হওয়া থেকে বাঁচানো গিয়েছে: অগ্নিমিত্রা

ব্রিগেডের মঞ্চে মন্ত্রী পদে শপথগ্রহণে অগ্নিমিত্রা।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার গঠনের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দিলেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শনিবার শপথ নেওয়ার পরে তিনি দাবি করেন, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গকে ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’-এ পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

শপথ নেওয়ার পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, ‘আমরা যে দীর্ঘ সংগ্রাম করেছি, এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। ২৩টি পুলিশ মামলা, অপমান, হেনস্থা, কাজ করতে না দেওয়া, কর্মীদের মারধর, অত্যাচার— সব কিছু পেরিয়ে আজ এই জায়গায় পৌঁছেছি। কখনও কখনও নিজেকে চিমটি কেটে দেখতে ইচ্ছে করছে, সত্যিই কি আমাদের সরকার হয়েছে?’


অগ্নিমিত্রা দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শেরই প্রতিফলন। তাঁর কথায়, ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। যে বাংলা পশ্চিম বাংলাদেশে পরিণত হওয়ার দিকে এগোচ্ছিল, সেই বাংলাকে আমরা বাঁচাতে পেরেছি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্যই বাঙালিরা বাংলা পেয়েছে। না হলে আজ আমরা বাংলাদেশে থাকতাম। বাংলাদেশে যেভাবে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ ওঠে, মহিলাদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে, সেরকম পরিস্থিতির মুখে আমরাও পড়তে পারতাম।’

তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র আক্রমণ করেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর অভিযোগ, তোষণের রাজনীতির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে অন্য পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। যদিও তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ সেই পরিস্থিতি হতে দেননি।

অগ্নিমিত্রার কথায়, ‘বাংলা বাংলাদেশে পরিণত হয়নি, এটা আমাদের সৌভাগ্য। না হলে ভাষা থেকে সংস্কৃতি— সব কিছু বদলে যেত। আজ ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা নিশ্চয়ই শান্তি পেয়েছে।’

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক আন্দোলনে প্রাণ হারানো বিজেপি কর্মীদের আত্মাও আজ শান্তি পেয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক হিংসায় বহু কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, শপথের পর অগ্নিমিত্রা পালের এই মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক বিতর্কও উসকে দিতে পারে। কারণ তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ, ধর্ম এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে একসঙ্গে টেনে আনা হয়েছে।