বর্ষার আগে জল জমার সমস্যা মোকাবিলায় তৎপর রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার একাধিক জলজটপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করলেন নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শহর ও শহরতলির নিকাশি ব্যবস্থার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতেই এই পরিদর্শন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে মন্ত্রী এদিন কলকাতার একাধিক ‘ব্ল্যাক স্পট’ ঘুরে দেখেন। ভারী বৃষ্টিতে যেসব এলাকায় প্রতি বছর জল জমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে, সেগুলির বর্তমান পরিস্থিতি এবং নিকাশি ব্যবস্থার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা হয়। পরিদর্শনের তালিকায় ছিল তারাতলা, বজবজের পুজালি, চড়িয়াল ব্রিজ, দইঘাট, মিন্ট কলোনি, ঋষিকেশ পার্ক, নর্দান পার্ক, বিবি-ওয়ান ক্যানাল এবং ওল্ড চৌভাগা পাম্পিং স্টেশন।
মন্ত্রীকে বিভিন্ন প্রকল্প এবং নিকাশি সংস্কারের কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট দেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। কোথায় নর্দমা পরিষ্কারের কাজ চলছে, কোথায় পাম্পিং ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন এবং কীভাবে দ্রুত বৃষ্টির জল নিষ্কাশন করা সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে আসন্ন বর্ষা মোকাবিলায় একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও করেন অগ্নিমিত্রা পাল। সেই বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন শহরাঞ্চলে জল জমা রোধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরিদর্শনের পর মন্ত্রী জানান, একাধিক এলাকায় বৃষ্টির জল এবং নিকাশি ব্যবস্থার পরিকাঠামো পর্যাপ্ত নয় এবং ব্যাপক উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।
অগ্নিমিত্রা পাল অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার দীর্ঘদিন ধরে খাল, ক্যানাল এবং নিকাশি ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। তাঁর দাবি, সেই কারণেই বর্তমানে বহু এলাকায় জল জমার সমস্যা প্রকট আকার নিয়েছে।
সম্প্রতি ভারী বৃষ্টির পর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় জল জমা নিয়েও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সমস্যার উৎস চিহ্নিত করার কাজ চলছে। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকার ম্যানহোল বন্ধ করে সেখানে রাস্তা নির্মাণ করেছিল, যার ফলে বৃষ্টির সময় জল নিষ্কাশনে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে রাজ্য জুড়ে নিকাশি খাল ও ড্রেনগুলির জরুরি ভিত্তিতে পলি অপসারণের কাজ শুরু হবে। লক্ষ্য একটাই—বর্ষায় যাতে বন্যা বা দীর্ঘস্থায়ী জলজটের পরিস্থিতি তৈরি না হয় এবং সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মুখে পড়তে না হয়।