পাহাড়ের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দার্জিলিং ও মিরিকের একাধিক এলাকা পরিদর্শন করলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তবে সফর শেষে পাহাড়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তৎকালীন সরকারের আমলে গঠিত ১৬টি পৃথক জনজাতি উন্নয়ন বোর্ডের আর্থিক লেনদেন ও কার্যকারিতা নিয়ে তিনি তদন্তের কথা জানান। সেইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই তদন্তের আওতার বাইরে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ-ও থাকবে না।
মহাকাল মন্দিরে পুজো দিয়ে মন্ত্রী পাহাড় সফর শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের জলসঙ্কটকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রথমেই তিনি সিনচেল এলাকায় যান। সেখানে গিয়ে চলতি জলপ্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন। ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথাও বলেন। প্রকল্পের অগ্রগতি, কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময়সীমা এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য মন্ত্রী সংগ্রহ করেন।
এরপর হ্যাপি ভ্যালির একটি আইসিডিএস কেন্দ্র পরিদর্শন করে শিশু ও কর্মীদের সঙ্গেও এদিন তিনি কথা বলেন। পরিষেবার মান ও পরিকাঠামোগত কোনও সমস্যা রয়েছে কিনা, তা সরেজমিনে তিনি খতিয়ে দেখেন। পরে মিরিক লেকে গিয়ে পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আলোচনা করেন। লেক চত্বরকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনার পাশাপাশি পর্যটকদের সুবিধার্থে ওয়াই-ফাই পরিষেবা চালুর কথাও জানান অগ্নিমিত্রা।
সেখান থেকে ইন্দো-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন পশুপতি মন্দির পরিদর্শনের পর তিনি পৌঁছন দুধিয়ায়। গত বছরে বর্ষায় ভেঙে যাওয়া সেতুর নির্মাণকাজ এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখে দ্রুত নির্মাণ শেষ করার তিনি নির্দেশ দেন। তাঁর দাবি, ২০২৭ সালের মধ্যেই নতুন সেতুর কাজ সম্পূর্ণ হবে।
পরিদর্শন শেষে অগ্নিমিত্রা তৎকালীন তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে বলেন, ‘আগের মুখ্যমন্ত্রী শুধু পাহাড়ে ঘুরতে আসতেন। পাহাড়ের উন্নয়নে কোনও কাজই করেননি। যে ১৬টা বোর্ড তৈরি করে তিনি টাকা দিতেন, তার প্রতিটি পয়সার হিসাব দিতে হবে। প্রতিটি বোর্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। তদন্ত হবে জিটিএ-র বিরুদ্ধেও। আমাদের সরকার উন্নয়ন করতে এসেছে। আমরা কাজ করতে এসেছি, ঘুরে বেড়াতে নয়।’