মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই জুলাই থেকে দিঘায় বন্ধ অতিরিক্ত ১০ টাকা টিসিএসি

File Photo

সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল। ১ জুলাই, বুধবার থেকে সেটা কার্যকর হল। আজ থেকে দিঘা-সহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে হোটেল ভাড়ার সঙ্গে আর ট্যুরিস্ট সিভিক অ্যামিনিটিজ চার্জ(টিসিএসি) নেওয়া হবে না। আগে ১০ টাকা করে টিসিএসি নেওয়া হত। এবার থেকে সেটা প্রত্যাহার করা হল। কিছুদিন আগে দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠক শেষে মুক্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘোষণা করেছিলেন। এবার তার কথামতোই পরিষেবা কর নেওয়া বন্ধ করা হল।

এই বিষয়ে ডিএসডিএ-র মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক সুরজিৎ পণ্ডিত জানান, জুলাই মাসের প্রথমদিন থেকে টিসিএসি নেওয়া বন্ধ করা হচ্ছে। এতদিন দিঘা ও পুরী-সহ সৈকতে অন্যান্য পর্যটনক্ষেত্রে আগত পর্যটকদের কাছ থেকে ভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ টাকা করে পরিষেবা কর আদায় করা হত। এরপর সেই কর ডিএসডিএ-র কাছে জমা দেওয়া হত।

প্রথমের দিকে টিসিএসি ৩ টাকা থাকলেও পরবর্তীকালে তা বেড়ে যায়। এরপরে শেষ পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ টাকা। মূলত রাস্তাঘাট, আলোর মতো বিভিন্ন জিনিস ব্যবহারের জন্য পর্যটকদের কাছ থেকে এই পরিষেবা কর নেওয়া হত। তবে এই কর নিয়েও কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ, অধিকাংশ হোটেল কর্তৃপক্ষই বছরের পর বছর টিসিএসি-র সেই টাকা ডিএসডিএ-কে জমা দিতেন না। তাঁরা সেই টাকা হোটেল কর্তৃপক্ষকে না দিয়ে নিজেদের কাছে রেখে দিতেন। এর ফলে অনেক হোটেলের লক্ষ লক্ষ টাকা পরিষেবা কর বকেয়া থাকত।


শুভেন্দু অধিকারী এই কারচুপির বিষয়টি জানার পরে কড়া পদক্ষেপ নেন। দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্যদের বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হোটেলের বিলের সঙ্গে পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ টাকা নেওয়ার প্রথা ঠিক নয়। তাঁর দাবি, এই খাত থেকে বছরে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা সংগ্রহ হলেও দিঘায় পর্যটকের সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। ফলে রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। যারা নিয়মিত আয়কর ও জিএসটি দিচ্ছেন, তাদের উপর আবার এই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করে জানিয়েছিসেন, গত দুই বছরে দিঘার উন্নয়ন কার্যত থমকে ছিল। রাস্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলির অবস্থা সন্তোষজনক নয়। বিশেষ করে দিঘা হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিকাঠামো আইসিউড বেড এবং ট্রমা অ্যাম্বুল্যান্সের মতো জরুরি সুবিধার অভাব রয়েছে। দ্রুত এসব ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশও দেন।