রামকৃষ্ণ মিশনের জমি দখলের স্মৃতিকে ফের উসকে দিল জমি মাফিয়াদের দাপট। এবার শিলিগুড়ি ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন উত্তর একটিয়াশাল এলাকায় প্রায় দেড় একর জমি জবরদখল করার অভিযোগ উঠল কুখ্যাত ‘কেজিএফ গ্যাং’-এর বিরুদ্ধে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠলো। পুলিশি নিস্ক্রিয়তা নিয়ে সরব হয়েছেন জমির মালিক।
অভিযোগকারী অনুপম মৈত্র জানান, ‘উত্তর একটিয়াশাল এলাকায় তাঁর দীর্ঘদিনের মালিকানাধীন প্রায় দেড় একর জমি রয়েছে। গত এপ্রিল মাসে আচমকাই একদল দুষ্কৃতী জেসিবি মেশিন নিয়ে ওই জমিতে চড়াও হয়।‘ তিনি অভিযোগ করেন, ‘সেখানে থাকা পুরনো নির্মাণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং কর্মরত নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করে বের করে দেয়। এরপরই রাতারাতি জমির বাইরে ‘নিলম সরিয়া’ নামে জনৈক এক ব্যক্তির মালিকানা সংক্রান্ত বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।‘
ঘটনার পরদিনই ভক্তিনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অনুপম মৈত্র। তাঁর দাবি, পুলিশ কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত ওই বিতর্কিত জমিতে উভয় পক্ষের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু অভিযোগ, আদালতের সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেখানে নতুন ঘর তৈরি করে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করেছে দখলকারীরা। অনুপম মৈত্র বলেন, ‘বারবার থানায় গিয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি। আদালতের ইনজাংশন বা আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কেন কাজ বন্ধ করছে না, তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।‘
স্থানীয় সূত্রে খবর, শিলিগুড়ির এই কুখ্যাত ‘কেজিএফ গ্যাং’ মূলত শহরের বড় ব্যবসায়ীদের হয়ে জমি দখলের বরাত নেয়। বিগত শাসকদলের ছত্রছায়ায় এই কারবার চালিয়ে যেত ওই দল। এই ঘটনার নেপথ্যে বিধান মার্কেটের এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর নাম উঠে আসছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা এই চক্রটি জমির জাল নথি তৈরি করে আসল মালিককে উচ্ছেদ করার কাজে সিদ্ধহস্ত। প্রায় দুই বছর আগে সেবক রোডের রামকৃষ্ণ মিশনের জমিও ঠিক একই কায়দায় দখল করেছিল এই বাহিনী, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় হয়েছিল।
গোটা বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রেজা দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তাঁর বিশদ জানা ছিল না। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, ‘পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে এবং ভক্তিনগর থানার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” প্রশ্ন উঠছে, বারবার কেন একই গোষ্ঠীর নাম জমি দখলের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে? কেনই বা আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে গড়িমসি করছে স্থানীয় থানা? মাফিয়া রাজের এই পুনরাবৃত্তি শিলিগুড়ির সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিধায়িক শিখা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এই সব গ্যাং তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে তৈরি হয়েছে আর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের জন্য গোটা ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকায় জমি জবরদখলের কাজ হয়েছে। এইসব গ্যাংকে এবার জেলে ঢোকানো হবে।‘