কেন্দ্রীয় বাজেটে দেশের প্রতিরক্ষা খাতে বাড়তি ১ লক্ষ ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন রবিবার ঘোষিত বাজেটে সামরিক খাতে মোট ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫.৩ শতাংশ বেশি। এ বারের বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে আধুনিকীকরণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২ লক্ষ ১৯ হাজার কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ২১ শতাংশেরও বেশি।বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিতে সমরাস্ত্র উৎপাদনের উপর।
অর্থমন্ত্রীর পেশ করা বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ১১ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা হবে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় ছিল জিডিপির ৮ শতাংশ। বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখা অর্থাত স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জামের ৬৫ শতাংশ দেশে তৈরি হয়। আমদানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে আগামী দিনে আরও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে বাজেটে।
এই উদ্দেশ্যে বিমান এবং বিমান ইঞ্জিন নির্মাণের জন্য ৬৩৭৩৩ কোটি টাকা পৃথক বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। যদিও বাজেটে বেতন এবং পেনশনের জন্য বরাদ্দ ৬.৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি করে ১.৭১ লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে। ফলে বায়ুসেনার জন্য বাড়তি রাফাল বা সেনার জন্য বাড়তি জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য অর্থের সংস্থান করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় বাজেটে।পহেলগামে হামলার পর ভারতীয় সেনা সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে অভিযান চালায়। সেই অভিযানের পর দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি, আধুনিকীকরণ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের উপর আরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে বলে বাজেট বিশ্লেষকদের মত।