পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ৬ লক্ষ ৮২ হাজার ৫২১ জন কৃষকের অ্যাকাউন্টে পিএম কিষানের টাকা ঢুকল। আর টাকার অঙ্ক হল-১৩৬ কোটি ৫০ লক্ষ ৪২ হাজার। এই টাকা কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতেই খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। কারণ সামনেই কালীপুজো। টাকার দরকার ছিল। চাষের কাজে তা লাগবে। সেটাই এবার সরাসরি চলে আসায় খুশি কৃষক সমাজ। নন্দকুমারের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে জেলাস্তরের অনুষ্ঠানে জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, সভাধিপতি বামদেব গুছাইত, জেলা কৃষিদপ্তরের উপ অধিকর্তা(প্রশাসন) সুকান্ত সাহারায়-সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সকলের অ্যাকাউন্টে মাথা পিছু দু’হাজার টাকা করে ঢুকে গিয়েছে। বছরে তিনটি কিস্তিতে পিএম কিষান প্রকল্পে দু’হাজার করে মোট ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এটি বছরের দ্বিতীয় কিস্তি।
প্রথম কিস্তির টাকা যখন ঢুকেছিল তখন প্রাপক সংখ্যা ছিল ৬ লক্ষ ৭১ হাজার ৩৪০ জন। সেখানে দ্বিতীয় কিস্তিতে ১১ হাজার উপভোক্তা বেড়েছে। জেলা কৃষিদপ্তরের উপ অধিকর্তা(প্রশাসন) বলেন, ‘পিএম কিষান প্রকল্পে এই বছরের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে। আমাদের জেলায় মোট ৬ লক্ষ ৭১ হাজার কৃষক উপকৃত হয়েছেন। সকলের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে গিয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের টাকা পাঠাবেন। রাজ্যের সব জেলায় প্রায় ৪৮ লক্ষ কৃষকের অ্যাকাউন্টে ওই টাকা ঢুকবে। পূর্ব মেদিনীপুরেও প্রায় সাত লক্ষ চাষির অ্যাকাউন্টে মুখ্যমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের টাকা ঢুকবে।’
কৃষকদের স্বার্থ বিজেপি সরকার দেখবে বলে বারবার বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর কালীপুজোর আগেই তা শুরু হয়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে। পিএম কিষান প্রকল্পের টাকা ইতিমধ্যেই ঢুকে গিয়েছে। আর কালীপুজোর কথা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে। পর পর দুটি প্রকল্পের টাকা ঢুকলে কৃষকরাও উপলব্ধি করতে পারবেন ডবল ইঞ্জিন সরকারের পরিষেবা। এই খবর চাউর হওয়ার পর কৃষকদের মধ্যে খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
তাছাড়া গত আগস্ট মাসে অতিবৃষ্টির জেরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়। ধান চাষ নষ্ট হয়ে যায়। জেলা কৃষিদপ্তরের সুপারিশ মতো ১৯টি ব্লকে ২১৬৫টি মৌজাকে ক্ষতিগ্রস্ত বলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে তার রিপোর্ট জমা পড়বে। তারপরই প্রয়োজনীয় অর্থ অনুমোদন করা হবে। কৃষকরা বলেন, ‘আগস্ট মাসে অতিবৃষ্টিতে ধানচাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। পিএম কিষান প্রকল্পে এই আর্থিক সুবিধা পাওয়ায় খরিফ মরশুমে চাষে সুবিধা হবে।’