আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় জড়িত প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে জামিন দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার সর্বোচ্চ আদালতের এই নির্দেশের পর চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন অভয়ার বাবা। আর মহাসপ্তমী শনিবার দিন সরাসরি আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেন আরজি করের নির্যাতিতার বাবা। এই জামিনের খবর শুনে ফুঁসে উঠলেন অভয়ার বাবা শেখর দেবনাথ। আবার রাস্তায় নেমে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই রাজ্যে সরকার বদল হয়ে গিয়েছে। এই আন্দোলনের পর বিধায়ক হয়েছেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। কিন্তু তাঁদের দাবি, এখনও অভয়া বিচার পেল না।
এদিন তদন্তকারী সংস্থাকেও বিঁধেছেন অভয়ার বাবা শেখর দেবনাথ। সন্দীপ ঘোষের জামিনে আইনি লড়াই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বরং বিচারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন অভয়ার বাবা। সন্দীপ ঘোষের জামিনের খবর শুনে শেখর দেবনাথ সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘লড়াই আমাদের চলবে। প্রয়োজনে আন্দোলন করতে হবে। বিচার আমাদের চাই। প্রয়োজনে আন্দোলন এবং লড়াই একসঙ্গে চলবে। তদন্তকারী সংস্থার জন্যই এই অবস্থা হয়েছে। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই থেকে সরছি না। প্রয়োজনে আবার আন্দোলনের পথে হাঁটতেও পিছপা হবো না।’
অভয়ার ধর্ষণ-খুনের পর আরজি কর হাসপাতালের দুর্নীতি সামনে আসে। ব্যাপক দুর্নীতি এবং প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি কাজের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। এবার সেই সন্দীপ ঘোষ জামিন পেতেই আরও একবার রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভয়ার বাবা। এই সন্দীপ ঘোষকেও দায়ী করেছিলেন অভয়ার বাবা-মা। এবার শেখর দেবনাথের হুঁশিয়ারি, ‘সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও বিচার চাওয়ার প্রশ্নে কোনও আপস করব না। রাজ্য সরকারে থাকলে কী হয়েছে? সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাই না। বিচারের জন্য যা প্রয়োজন, তাই করব।’ উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্ট সন্দীপ ঘোষের জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেন সন্দীপ ঘোষ। আর গতকাল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চ সন্দীপ ঘোষের জামিন মঞ্জুর করেন।
তাছাড়া অভয়ার বাবা-মা যদি আন্দোলনে নামেন সেক্ষেত্রে তা তো সরকারের বিরুদ্ধে হয়ে যাবে! সেটা কি সম্ভব? উঠছে প্রশ্ন। জবাবে শেখর দেবনাথ বলেন, ‘সরকারে থাকলে কী হয়েছে? বিচারের জন্য যা দরকার, সব করব। ১৪৭ কোটি মানুষ যে সংস্থার উপর ভরসা করছে তাদের যদি এমন গাফিলতি থাকে তাহলে কীভাবে ভরসা করবে? সরকার দায়ী নয়, দায়ী তদন্তকারী সংস্থা। এটা দুর্নীতির মামলা ছিল। আমাদের ধর্ষণের মামলাতেও ওর বিরুদ্ধে চার্জশিটের দাবি করেছি।’