‘যাঁরা যে দলের জার্সি পরে আছেন, সেই দলের হয়ে খেলুন’, স্পষ্ট বার্তা অভিষেকের

নিজস্ব চিত্র

রামনবমীকে কেন্দ্র করে রাজ্যে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মুর্শিদাবাদের নওদায় আয়োজিত জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পিছনে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।

অভিষেকের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যের একাধিক উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিক— এডিজি, আইজি, মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুরের এসপি বদল করা হয়েছে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য। তাঁর কথায়, ‘বাংলায় ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা চলছে, যাতে ভোটে প্রভাব ফেলা যায়।’

তিনি আরও বলেন, বাংলার মাটিতে দুর্গাপুজো, দিওয়ালি, ইদ, বড়দিন কিংবা গুরু নানক জয়ন্তীর মতো উৎসব বরাবরই শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়। ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ই বাংলার শক্তি— এই বার্তাই সবসময় দিয়েছে এই রাজ্য। কিন্তু কিছু মানুষ রামনবমীকে কেন্দ্র করে অস্ত্র নিয়ে মিছিল করছে, যা ভগবান রামের আদর্শের সম্পূর্ণ বিরোধী বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘রামচন্দ্র ত্যাগ, সংযম, ধৈর্য ও সহনশীলতার প্রতীক। সেই আদর্শকে আড়াল করে হিংসা ছড়ানো হচ্ছে।’


অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানের আড়ালে ভাঙচুর ও বিভাজনের রাজনীতি বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না। তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষ এই ধরনের রাজনীতি কখনও মেনে নেবে না। সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখবে।

নওদা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সাহিনা মমতাজ খানের সমর্থনে আয়োজিত এই সভা থেকে অভিষেক কংগ্রেস, সিপিএম এবং হুমায়ুন কবীরকে একযোগে আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, স্বাধীনতার এত বছর পরেও নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এর পিছনে বিজেপির ‘এজেন্ট’ কাজ করছে। তিনি অধীর চৌধুরী ও হুমায়ুন কবীরকে সেই ‘এজেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সমন্বয়ের অভিযোগ তোলেন।

রবিবার সভা শুরুর আগেই কিছু কর্মীর বিক্ষোভে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মঞ্চের সামনে চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে জেলা নেতৃত্ব হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জানা গিয়েছে, প্রার্থী নির্বাচন নিয়েই এই অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। যদিও অভিষেক স্পষ্ট করে দেন, ‘নওদায় প্রার্থী একজনই— সাহিনা মমতাজ খান।’ তিনি দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, ‘দু-মুখো রাজনীতি দল সহ্য করবে না। যে দলের জার্সি পরেছ, সেই দলের হয়েই খেলতে হবে।’ একইসঙ্গে ব্লক নেতৃত্বকে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেন। সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার বার্তা দেন।

এদিন নওদার পাশাপাশি উত্তর চব্বিশ পরগনার সন্দেশখালিতেও জনসভা করেন অভিষেক। সেখান থেকে তিনি অভিযোগ করেন, সন্দেশখালিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বদনাম করার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর দাবি, জমি দখল সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই বহু পরিবার তাদের জমি ফিরে পেয়েছে। সেই জমিতে চাষও শুরু হয়েছে। অভিষেকের বক্তব্য, মিথ্যা অভিযোগ তুলে এলাকার ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু মানুষ তার জবাব দিয়েছে। তিনি জানান, আগের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় মিলেছিল। এবার সেই ব্যবধান আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। সব মিলিয়ে নওদা ও সন্দেশখালির সভা থেকে তৃণমূলের সংগঠন মজবুত করা এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ের বার্তা স্পষ্ট করে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।