বাড়ি ভেঙে দিন, তবু মাথা নত করব না: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

Abhishek Banerjee Photo-SNS

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতা পুরসভার পাঠানো নোটিস ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি মুখ খুলে কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। মঙ্গলবার কালীঘাটে তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠকের ফাঁকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘বাড়ি ভেঙে দিন, তবু আমি মাথা নত করব না।’

একইসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, ‘এত প্রতিহিংসাপরায়ণ মুখ্যমন্ত্রী আমি আগে দেখিনি।’

প্রসঙ্গত, সোমবার ভবানীপুরের একটি সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্যে যাঁরা দুর্নীতি এবং বেআইনি সম্পত্তি তৈরির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সভা থেকেই তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।


মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ছিল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোট ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার নামে রয়েছে ১৪টি সম্পত্তি, চারটি রয়েছে অভিষেকের নিজের নামে এবং ছয়টি রয়েছে তাঁর বাবার নামে। পাশাপাশি জাভেদ খানের ছেলের নামেও বহু সম্পত্তি থাকার অভিযোগ করেন শুভেন্দু।

এই মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই কলকাতা পুরসভার তরফে দুটি নোটিস পাঠানো হয়। পুরসভার বিল্ডিং দপ্তরের পক্ষ থেকে কলকাতা পুর আইন ১৯৮০-এর ৪০০(১) ধারায় এই নোটিস জারি করা হয়েছে। নোটিস দুটি পাঠানো হয়েছে কালীঘাট রোডের ১২১ নম্বর এবং হরিশ মুখার্জি রোডের ১৮৮এ নম্বর ঠিকানায় থাকা সম্পত্তি নিয়ে। একটি নোটিস পাঠানো হয়েছে অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। অন্যটি পাঠানো হয়েছে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার উদ্দেশে, যা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বলে পরিচিত।

পুরসভার অভিযোগ, ওই দুই সম্পত্তিতে অনুমোদিত নকশার বিচ্যুতি ঘটিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। সেই কারণেই বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিসে বলা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অংশ ভেঙে ফেলতে হবে। নাহলে কেন পুরসভা নিজে ওই বাড়ি ভাঙার জন্য পদক্ষেপ করবে না, তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ভবনের নকশা, অনুমোদিত মানচিত্র এবং অন্যান্য নথিও জমা দিতে বলা হয়েছে। পুরসভার তরফে আরও জানানো হয়েছে, জবাব সন্তোষজনক না হলে স্বল্প সময়ের অতিরিক্ত নোটিস দিয়েই ভাঙার কাজ শুরু করা হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে সমস্ত খরচও সম্পত্তির মালিকদের বহন করতে হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, আইন মেনেই তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।