অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি ঘিরে পুরসভার তদন্তে চাপে তৃণমূল

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা একাধিক সম্পত্তি ঘিরে কলকাতা পুরসভার তদন্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুর প্রশাসনের এই পদক্ষেপে শুধু রাজনৈতিক চাপই নয়, তৃণমূলের সাংগঠনিক অন্দরের অস্বস্তিও প্রকাশ্যে এসেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।

সূত্রের খবর, কলকাতা পুরসভার তরফে আইনের নির্দিষ্ট ধারায় একাধিক সম্পত্তিতে নোটিস পাঠানো হয়েছে। সেই তালিকায় কলকাতার ‘শান্তিনিকেতন’ নামে পরিচিত একটি সম্পত্তিও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুর আধিকারিকরা সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলিতে গিয়ে অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান, নির্মাণ সংক্রান্ত নথি এবং কর সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখছেন।

অভিযোগ, নির্মাণগুলি অনুমোদিত নকশা মেনে হয়েছে কি না এবং কোনও বকেয়া কর রয়েছে কি না, তা যাচাই করতেই এই তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস শুরু থেকেই বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগকে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি বলেই দাবি করে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিষয়টি তৃণমূলের কাছে বিশেষ অস্বস্তিকর কারণ কলকাতা পুরসভাও তৃণমূল পরিচালিত সংস্থা। ফলে এই তদন্তকে পুরোপুরি বিরোধীদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে ব্যাখ্যা করাও দলের পক্ষে সহজ হচ্ছে না।


এদিকে একটি সম্পত্তিতে নোটিস সাঁটানোর পর তা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে ঘিরেও রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, তদন্তের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তৃণমূলের অন্দরেও এই বিষয়টি নিয়ে চাপা গুঞ্জন শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। দলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই তদন্ত দলীয় নেতৃত্বের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

যদিও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এই তদন্ত থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পুরসভার এই ধরনের বিষয় প্রশাসনিক বিভাগের আওতায় পড়ে। এ বিষয়ে তাঁর কাছে বিশেষ কোনও তথ্য নেই। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

এদিকে এই ঘটনার মধ্যেই কলকাতা পুরসভার বরো নম্বর ৯-এর চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাস পদত্যাগ করেন। যদিও তিনি কাউন্সিলর পদে বহাল রয়েছেন। তাঁর পদত্যাগ ঘিরেও নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। এই পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত কারণের উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এদিকে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বিরোধীদের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তিনি সাধারণ মানুষকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী হলফনামা দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। সেখানে সাংসদের ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ এবং আয় সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা বলে ঘোষণা করেছিলেন। একই সঙ্গে আরও প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার কথাও উল্লেখ ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী ফল দাঁড়ায়, তা ভবিষ্যতে স্পষ্ট হবে। তবে আপাতত সম্পত্তি, কর এবং নির্মাণ সংক্রান্ত প্রশ্নকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।